বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বায়োহ্যাকিং চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি হলো লন্ডনের চেলসিতে অবস্থিত “Hum2n”। এখানে অত্যাধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় যা “longevity” বা দীর্ঘজীবন অর্জনের জন্য তৈরি। ক্লিনিকের অভ্যন্তরে আধুনিক যন্ত্রপাতি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এবং অত্যন্ত প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে অন্যতম হলো ReOxy ডিভাইস যা লো-অক্সিজেন পরিবেশ সৃষ্টি করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের কার্যকারিতা উন্নত করার জন্য। এই চিকিৎসাকেন্দ্রের পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত একজন সুপ্রসিদ্ধ বায়োহ্যাকার এবং দীর্ঘজীবন গবেষণায় একজন বিশেষজ্ঞ। তিনি বিভিন্ন চিকিৎসা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এবং সেগুলো নিজে ব্যবহার করেছেন।
বর্তমানে সিলিকন ভ্যালি এবং যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানের পুরুষ সমাজের মধ্যে একটি বড় প্রশ্ন উঠছে, “আমরা কিভাবে অমর হতে পারি?” হাভার্ডের জেনেটিক বিশেষজ্ঞ ডেভিড সিনক্লেয়ার সম্প্রতি টুইট করেছেন যে, যদি আপনি ১০০ বছর বয়সে পৌঁছান এবং এখনকার মতো রিল্যাক্স ফিল করতে পারেন, তবে আপনি মৃত্যুকে চাইবেন না। সিলিকন ভ্যালি এবং এর আশেপাশের অঞ্চলগুলোতে এখন দীর্ঘজীবন এবং বায়োেহ্যাকিংয়ে বিনিয়োগ বাড়ছে। বিশাল অঙ্কের অর্থ খরচ করছেন উদ্যোক্তা ব্রায়ান জনসন, যিনি বছরে ২ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন নিজের দীর্ঘজীবন বৃদ্ধির জন্য। এর পাশাপাশি, স্যাম অল্টম্যান, পিটার থিল, এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তারা দীর্ঘজীবন গবেষণায় বিপুল অর্থ লগ্নি করেছেন। কিন্তু এই সকল পরিশ্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো, মানুষের জীবনের একাধিক বছর বাড়ানো এবং নানা ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের স্বাস্থ্য আগের তুলনায় উন্নত করা।
“Longevity” ব্যবসা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী একটি বিশাল বাজার হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকরা বলেন, দীর্ঘজীবন অর্জন করতে হলে শুধু বাহ্যিক উপাদান নয়, আমাদের জীবনের অভ্যন্তরীণ উপাদান যেমন পুষ্টি, শারীরিক কসরত, ঘুম এবং মানবিক সম্পর্কের উপরে মনোযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে কিছু সিম্পল থেরাপি যেমন মেন্টল শ্বাস নেওয়া, কালো কফি পান করা, এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া মানুষকে দীর্ঘজীবী করে তুলতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই সকল আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির মধ্যে এখনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের অভাব রয়েছে এবং কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব পদ্ধতি কখনও কখনও স্বাস্থ্যগত ক্ষতির কারণ হতে পারে। সুতরাং দীর্ঘজীবন প্রযুক্তি এবং চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন রয়েছে যা সময়ের সাথে সমাধান হতে পারে।
বর্তমানে বিশেষজ্ঞরা পাঁচটি প্রধান দিক নিয়ে কাজ করছেন এপিজেনেটিক্স (কিভাবে আমাদের আচরণ এবং পরিবেশ আমাদের জিনগত কার্যকলাপ পরিবর্তন করে), টেলোমের (যা আমাদের ক্রোমোসোমের শেষাংশে থাকে এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি ছোট হয়ে যায়), স্টেম সেল, এবং অ্যান্টি-এজিং চিকিৎসা। এসব পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষের বয়স বাড়ানো সম্ভব হলে ভবিষ্যতে একদিন এটি মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারায় পরিণত হতে পারে।


