আগের বছরগুলোতে ডিসেম্বর মাসজুড়ে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘বিজয়ের উৎসব’। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার সেই উৎসবের নাম শিল্পকলা একাডেমি দিয়েছে ‘ডিসেম্বরের উৎসব’। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান থেকে বাদ পড়া, ৭ মার্চ জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ পড়ার ধারাবাহিকতা থেকেই শিল্পকলা একাডেমির এই প্রয়াস বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
বিজয় দিবস আয়োজনের নাম পরিবর্তনের পক্ষে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘বিজয়ের মাস’ শব্দটি আওয়ামী লীগ তার রাজনীতির পুঁজি হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল, তা থেকে এই উৎসবকে মুক্তি দিতে চাইছেন তারা। ‘ডিসেম্বর মাসটাকে উৎসবমুখর বাংলাদেশ দেখতে চাই, জানুয়ারি মাসটাকে উৎসবমুখর বাংলাদেশ দেখতে চাই, ফেব্রুয়ারি মাসেও আমরা উৎসবমুখর বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেখানটায় কী বলব তখন? আরেকটা নাম দিতে হবে তখন আমাকে? মার্চ মাসে কি নাম দেব? এপ্রিল মাসে কি নাম দেব? এজন্য আমাদের যতদিন টাকা আছে … প্রতিটা মাসে, সারা বাংলাদেশ উৎসবমুখর বাংলাদেশে পরিণত করতে চাই।’
শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এই ‘বিজয়ের মাস ‘টাকে মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে তার মতো করে ব্যবহার করেছে। তার আর কোনও পুঁজি ছিল না। এক ছিল শেখ মুজিব, আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ। এ দুটোকে পুঁজি করে তার গৎবাঁধা যে ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল, একরৈখিক একটা ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল। যার অর্থ হচ্ছে-আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। যেখানে বামপন্থী সকল দলের কথা উহ্য। তাজউদ্দীন আহমেদ, যিনি মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেছিলেন, তার কথাটা উহ্য হয়ে গিয়েছিল একেবারেই। তার মানে আওয়ামী লীগ সমান সমান শেখ মুজিব সমান সমান মুক্তিযুদ্ধ। এর বাইরে দাঁড়িয়ে চিন্তা করেন আপনারা।’
সৈয়দ জামিল আহমেদ আরো বলেন, ‘আপনারা একটু খোলাচোখে দেখেন, একটু খোলা মনে চিন্তা করেন, আমরা বিজয়ের উৎসব করছি, মাত্র চারুকলায় গিয়ে আসলাম, সেখানে মাসব্যাপী পারফর্ম্যান্স আর্ট, ইনস্টলেশানের কাজ হচ্ছে। সেখানে আমাদের মূল বিষয়টা হচ্ছে উৎসবমুখর বাংলাদেশ, গণমুখী শিল্পকর্ম এবং প্রশ্ন উত্থাপন করা। আমরা চাই, শিল্পীরা প্রশ্ন উত্থাপন করুক। আমরা চাইব, সারাবছরব্যাপী এরকম উৎসব করতে।’


