বাংলাদেশে মাদারীপুরে ‘বিদাত’ আখ্যায়িত করে একদল ইসলামপন্থীর একটি বটগাছ কেটে ফেলার ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা হচ্ছে। যদিও বিশাল গাছটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলার আগেই স্থানীয় প্রশাসন তাতে হস্তক্ষেপ করেছে।
আবার গত কয়েকদিন আগে কুড়িগ্রামের একটি উপজেলায় একজন নারী শিক্ষকের পর্দা বিষয়ে ফেসবুক পোস্টের জের ধরে সালিশ করে তাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে — সেই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে লাইভ করার ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ‘ধর্মবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে পাঠাগার থেকে পাঁচটি বস্তায় করে বই তুলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে জমা দেয়ার ঘটনা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
গত কয়েক মাসে ‘ধর্ম বিরোধী’ কর্মকাণ্ডের অজুহাত দিয়ে সারাদেশে নানা জায়গায় মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি ‘তৌহিদী জনতা’ কিংবা ‘বিক্ষুব্ধ মুসল্লিদের’ দাবির মুখে দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে নারীদের ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করে দেয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছিলো।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসের ‘অ্যাজ বাংলাদেশ রিইনভেন্টস ইটসেলফ্, ইসলামিস্ট হার্ড লাইনারস্ সি অ্যান ওপেনিং’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেশে ইসলামি কট্টরপন্থীদের নানা তৎপরতার তথ্য বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও নারীদের প্রতি বিদ্বেষের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছিলো।
বিক্ষুব্ধ মুসল্লি কিংবা তৌহিদী জনতার ব্যানারে দেশে নানা ঘটনা ঘটেই চলেছে এবং একটি গোষ্ঠীর এসব তৎপরতার ক্ষেত্রে সরকারও নমনীয়তা প্রদর্শন করে বলে অনেকে মনে করছেন।
এই প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলাকে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন — এটিকে ঠিক ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বলা যাবে না, বরং ধর্মীয় অঙ্গনসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ‘অতি অধিকার বোধে’র এবং নিজেরাই তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছুর সমাধান করে নেয়ার একটি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তার মতে, কোনো একটা আন্দোলন নাগরিক জনতার অংশগ্রহণে সফল হলে তার একটা জের তৈরি হয় এবং সব ক্ষেত্রেই তার প্রভাব দেখা যায়।
তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এ কে এম খাদেমুল হক মনে করেন, এসব ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা হিসেবেই দেখা উচিত।
তিনি বলেন — “বাংলাদেশের কিছু মানুষের মধ্যে এমন ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তারা এখন বেশী প্রকাশ্যে আসছে। আবার এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও দেখা যাচ্ছে না।”
তাঁর মতে — “যারা এগুলো করছে তারা নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করার জন্যই করছে এবং তারা কোনোভাবেই ধর্মপ্রাণ মানুষদের প্রতিনিধিত্বও করে না। সরকারের উচিত এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া।”


