স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, সব রাজনৈতিক দলকে ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য রক্ষা করতে হবে। বৈঠকে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, জুলাই শহীদদের মামলা অগ্রগতি, পুলিশের নিরপেক্ষতা, পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ও ভুয়া খবরের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাহাঙ্গীর বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর যে ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, তা বজায় রাখতে হবে। এই ঐক্যে যদি ফাটল ধরে, তাহলে ফ্যাসিস্টের দোসররা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তিনি সবাইকে সবার সহযোগিতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়।
তিনি আরও বলেন, যে রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের কার্যকলাপ নেই, তারা চাইবে নির্বাচনকে ব্যাহত করতে। তাই সকলকে মিলে তাদের প্রতিহত করতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ১২৩টি সংগঠন মোট ১,৬০৪টি অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে।আন্দোলনকারীদের তিনি সড়ক অবরোধ না করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উন্মুক্ত মাঠ বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মতো নির্ধারিত স্থানে কর্মসূচি পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
জাহাঙ্গীর স্বীকার করেছেন, পুলিশের ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন; কোনো ঘটনায় যদি পুলিশ আগেভাগে ব্যবস্থা নেয়, তা হলে বলা হয় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বানচাল করেছে, আর যদি সহিংসতার পরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখন বলা হয় দেরি হয়েছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকার দায়িত্বশীল হলেও, সত্যিই অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে কি না, তা রাজনৈতিক অভিনেতাদের ওপর নির্ভর করবে।
এই বৈঠক ও উপদেষ্টার মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।


