অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ডেইলি স্টারের সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন-
স্বৈরশাসনের সহযোগীদের অপসারণ করে প্রশাসন, বিচারবিভাগ ও পুলিশে যোগ্য-নিরপেক্ষ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এখন জোর দেয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপে প্রতিষ্ঠান, আইন ও নীতি সংস্কারের মাধ্যমে জনমুখী, অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতাসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় কাঠামো গড়ে তোলা তাদের লক্ষ্য ।
সরকার প্রথমে উচ্চ আদালত পুনর্গঠনে জোর দিচ্ছে। কারণ, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় আমলেই অযোগ্য দুর্নীতিগ্রস্ত ও দলীয় লোকদের উচ্চ আদালতে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্বাধীন নিম্ন আদালত নির্ভর করবে উচ্চ আদালতের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতার ওপর।
“ উচ্চ আদালত সংস্কারে বিচারপতিদের নিয়োগ পদ্ধতি সংশোধন, প্রধান বিচারপতির একক কর্তৃত্ব যুক্তিসঙ্গত করা, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের সাধারণ প্রশাসনিক কমিটি সংস্কার, উচ্চ আদালতের জন্য স্বাধীন ও বিশেষায়িত সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ বন্ধ ইত্যাদি পদক্ষেপ নেয়া হবে। “
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
“ শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলার ধরন নিয়ে সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ক্ষতিগ্রস্তরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মামলা করছে, সরকার কাউকে উৎসাহিত করছে না। কেউ যদি শেখ হাসিনা বা তার মন্ত্রীদের হত্যার উস্কানিদাতা বলে অভিযুক্ত করে মামলা করেন, সরকার তাকে বাধা দিতে পারে না। সরকার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে, যথাযথ তদন্ত ও তদন্তকালে জামিনের অধিকার থাকবে।
আদালত প্রাঙ্গণে গ্রেফতারকৃত আওয়ামী লীগ নেতাদের, বিশেষ করে দীপু মনিকে হেনস্থা করা প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, কিন্তু এই পরিস্থিতির জন্য সদ্য ক্ষমতাচ্যুতদের অপকর্মই দায়ী বলে মন্তব্য করেন। গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার হরণ, অবিচার-অনিয়মের পরে মানুষ শান্ত প্রতিক্রিয়া দেখাবে এমন প্রত্যাশা করা সংগত নয় বলে তিনি মনে করেন।“
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল
“ সরকারের মেয়াদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন – এই সরকার কতদিন ক্ষমতায় থাকবে জনগণই তা নির্ধারণ করবে। মানুষ যদি রাষ্ট্রের সংস্কার ও পরবর্তী নির্বাচন নির্বাচন সুষ্ঠু হোক তা চায়, তাহলে সরকারকে সময় দেয়া উচিত।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণকারী নিবর্তনমূলক আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন – এসব আইনের প্রয়োগ আগের সরকারের মত হবে না। অংশীজনদের মতামত নিয়ে এই আইনগুলোর কোন্ কোন্ ধারা সংশোধন অথবা বাতিল করতে হবে তা আগামী এক মাসের মধ্যে করার চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান ।
একটি হত্যা মামলায় সাত জন সাংবাদিককে আসামি করা প্রসঙ্গে তিনি আগের মতই বলেন, সরকার নিহতের অভিভাবককে মামলা করা থেকে বিরত রাখতে পারে না। আগের সরকার এধরনের মামলাকে রেওয়াজে পরিণত করেছিল, সম্ভবত তার রেশই আমরা দেখছি। যথাযথ তদন্ত ছাড়া যাতে কেউ হয়রানির শিকার না হন, তা সরকার দেখবে বলে তিনি জানান।“
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল


