বাংলাদেশ রেলওয়ে ১ টাকা আয় করতে গিয়ে খরচ করছে আড়াই টাকার বেশি। রেলের হিসাবে, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত—৬ মাসে রেলওয়ে যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং অন্যান্য খাত থেকে আয় করেছে ৮৩৬ কোটি টাকা। এ সময় ব্যয় করেছে ২ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।
সরকারের এই পরিবহন সংস্থা লোকসান দিচ্ছে বছরের পর বছর ধরে। রেলওয়ের তথ্য অনুসারে, স্বাধীনতার পর ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে একবারই কিছু লাভ করেছিল রেলওয়ে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার কোটি বা এর বেশি লোকসান দিচ্ছে রেলওয়ে।
সেবার মান ও লাভজনক বিবেচনায় পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষে ভারতের রেলব্যবস্থা। দেশটি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ রুপি আয়ের বিপরীতে ০.৯৮ রুপি খরচ করেছে। অর্থাৎ তাদের রেলওয়ে লাভজনক অবস্থায় রয়েছে।
কানাডার রেলব্যবস্থা গত বছর প্রতি ১ ডলার আয় করতে ৬৩ সেন্ট খরচ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় রেল পরিচালনা করা হয়। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই আয়ের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম খরচ করে থাকে।
আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে রেলের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এক লাখ কোটি টাকার বেশি খরচ করা হয়েছে। এর বেশির ভাগই ছিল বিদেশি ঋণ।সড়ক ও রেলের অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ।
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকল্পের ব্যয় কমাতে তৎপর হয়েছে। এর বাইরে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান দৈনন্দিন ব্যয় কমানোরও নির্দেশনা দিয়েছেন। এরপর রেলওয়ে ব্যয় সংকোচনের কিছু খাত চিহ্নিত করেছে।
বুয়েটের অধ্যাপক সামছুল হক বলেন, রেলের আয় বাড়ানোর স্বীকৃত পথ হচ্ছে কনটেইনার ও মালামাল পরিবহন বাড়ানো। রেলের অনেক জমি থেকে আয় আসছে না। সেগুলো ইজারা নিয়ে কিংবা অবৈধভাবে দখল করে প্রভাবশালীরা লাভবান হচ্ছেন, সুবিধা পাচ্ছেন কিছু অসাধু কর্মকর্তা। জমি থেকে বেশি আয় করতে হবে। সর্বোপরি কেনাকাটায় স্বচ্ছতা আনতে হবে।


