চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্সে ও রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৭% ও ১০%। বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান এ দুই উৎসের উচ্চ প্রবৃদ্ধিতেও রিজার্ভ বাড়ছে না দেশে। ৮ মাস ধরে রিজার্ভের পরিমাণ ওঠানামা করছে ১৯ থেকে ২১ বিলিয়ন ডলারের ঘরে। গত অর্থবছরের তুলনায় রেমিট্যান্স বেশি এসেছে ৪ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। আর রফতানি আয় বেশি এসেছে ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার।বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রেমিট্যান্স ও রফতানি আয় বাড়লেও মূলত প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই), বিদেশী অনুদান এবং মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি বিদেশী ঋণ কমে যাওয়ার প্রভাবেই দেশের রিজার্ভ চাপে পড়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কেবল রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির ধারায় এগিয়ে নেয়া যাবে না।নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই বিদেশী বিনিয়োগ নিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। যেকোনো দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রধান শর্ত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।কিন্তু এ দুটি উপাদানই এ মুহূর্তে বাংলাদেশে অনুপস্থিত। অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী বলেন, ‘রেমিট্যান্সের বেশির ভাগই প্রবাসী পরিবারের ভোগে ব্যয় হয়ে যায়। যেটুকু উদ্বৃত্ত থাকে সেটি দিয়েও তারা বাড়ি নির্মাণ করে, জমি কেনে। গাড়ি-বাড়ি কেনা কখনো বিনিয়োগ নয়। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিদেশীরা না হোক, অন্তত ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছে কিছু বিনিয়োগ নিয়ে আসতে পারলেও দেশের উপকার হতো।
অন্যদিকে পরপর দুই অর্থবছরে দেশের আমদানি খাত সংকুচিত হওয়ার পর চলতি অর্থবছরে আবারো প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের কোনো দেশের পক্ষেই বিদেশী বিনিয়োগ ছাড়া রিজার্ভ বাড়ানো সম্ভব নয়। আর আমাদের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটি আরো বেশি কঠিন। কারণ রেমিট্যান্স ও রফতানি থেকে আমাদের যে আয় হয়, সেটি আমদানি করতে গিয়েই শেষ হয়ে যায়। এ মুহূর্তে আমাদের বিদেশী মুদ্রার আয় যা হচ্ছে, তা দিয়ে অর্থনীতির অস্থিরতা দূর হয়েছে। এখন সমৃদ্ধির দিকে যেতে হলে বিদেশী বিনিয়োগের প্রয়োজন।’


