ইউরোপীয় কমিশন আগামী মাসে এমন একটি প্রস্তাব আনতে চলেছে, যার লক্ষ্য ২০২৭ সালের মধ্যে ইইউভুক্ত দেশসমূহে রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং চলতি বছরের মধ্যেই মস্কোর সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি গ্যাস চুক্তিও নিষিদ্ধ করা।
রাশিয়ান প্রাকৃতিক গ্যাস ও তরলীকৃত গ্যাস (এলএনজি) নিষিদ্ধ করার সবচেয়ে সরল আইনি পথ হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা। তবে এজন্য ইইউ-র ২৭টি সদস্য দেশের সর্বসম্মতির প্রয়োজন হওয়ায় এটি বাস্তবায়ন করাটা কঠিন।
হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া, যারা রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তারা গ্যাস নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই দুই দেশ টার্কস্ট্রিম পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়ান গ্যাস আমদানি করে এবং তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থায় গেলে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাবে।
ইইউ কূটনীতিকদের মতে, সম্প্রতি এক গোপন বৈঠকে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়া বাদে ইইউভুক্ত সব দেশ রাশিয়ান গ্যাস নিষিদ্ধের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও কেউ কেউ এর আইনি ভিত্তি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে।
২০২৩ সালে রাশিয়া ইউরোপের গ্যাস আমদানির ১৯% সরবরাহ করেছে, যা ২০২২ সালের আগের ৪৫% থেকে অনেক কম। ২০২৪ সালের শেষে ইউক্রেনীয় পাইপলাইন দিয়ে রাশিয়ান গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর – ২০২৫ সালে এই হার ১৩%-তে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউরোপে রাশিয়ান গ্যাস আমদানির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ হয় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়, যেগুলো ২০২৭ সালের মধ্যে বাতিল করার পরিকল্পনা আছে। বাকি অংশ আসে স্বল্পমেয়াদি বা স্পট মার্কেট থেকে ক্রয়ের মাধ্যমে।
ইইউ সরাসরি নিষেধাজ্ঞার পথে যেতে না পারলেও বিকল্প আইনগত পন্থা, শুল্ক আরোপ ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ধাপে ধাপে রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায়। ২০২৭ সালের মধ্যে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথেই ইউরোপ এগিয়ে যাচ্ছে।


