মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভউইটকফ বলেছেন–‘এমন একটি বিশ্ব কে না চায়, যেখানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে মিলে ভালো ভালো কাজ করবে, আর্কটিকে নিজেদের জ্বালানিনীতিতে কীভাবে সমন্বয় আনা যায়-সে বিষয়ে চিন্তা করবে, সম্ভব হলে জলপথ ভাগাভাগি করবে, একসঙ্গে ইউরোপে এলএনজি গ্যাস পাঠাবে, আর হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়েও সহযোগিতা করবে।’ ট্রাম্পপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন–‘পুতিনকে খারাপ মানুষ বলে মনে করি না। তিনি সুপার স্মার্ট’। শুধু তাই নয়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তিনি যে ‘পছন্দ’ করেন, তা-ও সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দিয়েছেন উইটকফ।
ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতির যে আলোচনা চলছে, তাতে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইটকফ। এ নিয়ে তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেন-দুই দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার উত্থাপন করা বিভিন্ন যুক্তি আবার তুলে ধরেন ট্রাম্পের দূত। রাশিয়ার মতো তিনিও ইউক্রেনকে ‘একটি মিথ্যা দেশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি ইউক্রেনে দখল করা অঞ্চলগুলো রাশিয়ার ভূখণ্ড বলে বিশ্ব কখন স্বীকৃতি দেবে-সে প্রশ্নও রাখেন স্টিভ উইটকফ। ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে দেশটিতে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সাক্ষাৎকারে তা বাতিল করে দেন উইটকফ। স্টারমার ও ইউরোপের অন্য নেতাদের দেওয়া প্রস্তাবটি ‘অতিসরল’ ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে রাশিয়া কী কারণে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তা নিয়েও কথা বলেছেন স্টিভ উইটকফ। এ প্রসঙ্গেও তিনি ক্রেমলিনের সুরে কথা বলেন। উইটকফ বলেন, “রাশিয়া গোটা ইউরোপজুড়েই পদাঙ্ক এঁকে দেবে–এমন ধারণা অযৌক্তিক। আমাদের নেটো নামক একটা কিছু আছে; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ছিল না।” সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পর ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে কীভাবে মিলেমিশে কাজ করতে চান, সেই বিষয়েও বিস্তারিত কথা বলেছেন উইটকফ। যুদ্ধবিরতি নিয়ে এরই মধ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌদি আরবে বৈঠক করেছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। একই বিষয়ে সৌদি আরবে রোববার ও সোমবারও বৈঠকের কথা রয়েছে।


