ইউক্রেনে যুদ্ধ থামানোর বিনিময়ে ন্যাটোর সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে পশ্চিমা বিশ্বের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি ও কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সকে বিষয়টি জানিয়েছে আলোচনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তিন রুশ সূত্র।
গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সঙ্গে দুই ঘণ্টার বেশি সময় কথোপকথনের পর পুতিন জানান, ইউক্রেনের সঙ্গে একটি শান্তি সমঝোতা নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়েছেন তিনি। রাশিয়া বর্তমানে সেই সমঝোতার খসড়া তৈরি করছে। তবে এর জন্য কত সময় লাগবে, তা বলা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্রগুলো জানায়, ইউক্রেন, জর্জিয়া ও মলদোভাকে ন্যাটো সদস্যপদ থেকে বাদ দেওয়ার নিশ্চয়তা চাচ্ছেন পুতিন। পাশাপাশি ইউক্রেনকে নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ, রুশ ভাষাভাষীকে সুরক্ষা এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ প্রত্যাহারসহ রাশিয়ার জব্দকৃত সার্বভৌম সম্পদের বিষয়ে নিষ্পত্তি চান তিনি।
সূত্রগুলোর একজন বলেন, পুতিন শান্তি চান; কিন্তু যে কোনো মূল্যে নয়। ওই সূত্রের মতে, নিজের শর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব না হলে ইউরোপ এবং কিয়েভকে সামরিক অগ্রগতির মাধ্যমে দেখাতে চান পুতিন, যে ভবিষ্যতের শান্তি হবে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল। ক্রেমলিন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও আগেও বহুবার বলেছে, ইউক্রেন যুদ্ধের মূলে রয়েছে ন্যাটো সম্প্রসারণ ও পশ্চিমাদের সহযোগিতা।
অন্যদিকে ইউক্রেন জানিয়ে এসেছে, ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা রাশিয়া ঠেকাতে পারবে না। দেশটি পশ্চিমা নিরাপত্তা গ্যারান্টি ছাড়া রাশিয়ার ভবিষ্যৎ আক্রমণ ঠেকাতে পারবে না বলেও মত দিয়েছে কিয়েভ। ন্যাটো আগেও বলেছে, তাদের ‘ওপেন ডোর পলিসি’ রাশিয়ার দাবির জন্য বন্ধ করা হবে না। জোটটি এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
২০০৮ সালের বুখারেস্ট সম্মেলনে ন্যাটো জানিয়েছিল, ভবিষ্যতে ইউক্রেন ও জর্জিয়াকে সদস্যপদ দেওয়া হবে। এর পর ২০১৯ সালে ইউক্রেন নিজেদের সংবিধানে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সদস্যপদের লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আক্রমণ চালায় রাশিয়া। ইউক্রেনের রুশ অধ্যুষিত পূর্বাঞ্চল ডনবাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী ও বিদ্রোহীদের মধ্যে আট বছরের সংঘর্ষের পর ওই যুদ্ধ শুরু হয়। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে।
ন্যাটো অবশ্য দাবি করে, তাদের উপস্থিতি রাশিয়ার জন্য হুমকি নয়। তবে ২০২২ সালে জোটটি রাশিয়াকে ইউরোপ-আটলান্টিক অঞ্চলের জন্য ‘সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সরাসরি হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে। রুশ আক্রমণের জবাবে ২০২৩ সালে ফিনল্যান্ড ও ২০২৪ সালে সুইডেন ন্যাটোতে যোগ দিয়েছে। পশ্চিমা নেতারা বারবার বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়া জয়ী হলে একদিন ন্যাটোভুক্ত দেশে আক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হবে, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। রাশিয়া অবশ্য এসব সতর্কতাকে ‘ভীতির প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।


