রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি আলোচনা নিয়ে বিশ্ব বাজারে এখনো অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এই অনিশ্চয়তার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত সপ্তাহজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের সাপ্তাহিক দরবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মার্কিন বাজারের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
গত শুক্রবার ব্রেন্টের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ ডলার ৭৩ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৬ সেন্ট বা ০.৯ শতাংশ বেশি। একই দিনে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৬৩ ডলার ৬৬ সেন্টে স্থিত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৪ সেন্ট বা ০.২২ শতাংশ বেশি।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক ব্যাংকিং ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের কমোডিটি অ্যানালিস্ট জিওভানি স্তাওনোভো বলেছেন, “বাজারের বিনিয়োগকারীরা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। তবে সামনের দিনগুলোয় আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।”
যুদ্ধ পরিস্থিতিও পরিস্থিতি তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। গত সপ্তাহে রাশিয়া-ইউক্রেনের সংঘাত অব্যাহত ছিল। রাশিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন সীমান্তঘেঁষা এলাকায় বিমান হামলা চালায় এবং পাল্টা আক্রমণে ইউক্রেন রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ও দুরুজবা পাইপলাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত করে। এতে হাঙ্গেরি ও স্লোভাকিয়ায় অন্তত পাঁচ দিন রাশিয়ার তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত থাকলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এদিকে এস্তোনিয়া ঘোষণা করেছে, তারা ইউক্রেনে শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাতে প্রস্তুত। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শর্ত দিয়েছেন, ইউক্রেনকে দনবাস অঞ্চল ও ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করতে হবে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, যেকোনো সমঝোতায় তিনি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবেন।
জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতিতে আরেকটি কারণ যুক্তরাষ্ট্রে মজুদের হ্রাস। যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, ১৫ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মজুদ কমেছে ৬০ লাখ ব্যারেল, যা পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক বেশি। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সক্রিয় রিগের সংখ্যা টানা চার সপ্তাহ ধরে কমছে। চলতি সপ্তাহে রিগ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৩৮-এ, যা জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন।
মোটের উপর আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও সরবরাহের চাপে জ্বালানি তেলের বাজারে ঊর্ধ্বগতি ও সংকট পরিস্থিতি একই সঙ্গে বিরাজ করছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


