রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে চারটি সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার ৪০টির বেশি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা। ড্রোনগুলো ইউক্রেন থেকে ছোড়া হয়নি। বরং নিশানায় থাকা রুশ সেনাঘাঁটির আশপাশের এলাকা থেকে ছোড়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
কিয়েভের দাবি সত্য হয়ে থাকলে তিন বছর আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার ভেতরে এটাই ইউক্রেনের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ড্রোন হামলা। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত শান্তি আলোচনার আগমুহূর্তে এ হামলাকে উসকানি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
রাশিয়া পাঁচটি অঞ্চলে হামলার কথা নিশ্চিত করেছে এবং এসবকে ‘সন্ত্রাসী কার্যক্রম’ হিসেবে অভিহিত করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইভানোভো, রিয়াজান এবং আমুর অঞ্চলে হামলা প্রতিহত করা হয়েছে, যদিও মুরমানস্ক ও ইর্কুৎস্ক অঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিমান আগুনে পুড়ে গেছে বলে স্বীকার করেছে। কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানায় তারা।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর একটি ব্যাপক আকাশ হামলা চালায়। ৪৭২টি ড্রোন ও একাধিক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে চালানো এই হামলাকে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসে রাশিয়ার অন্যতম বড় আক্রমণ বলে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন দাবি করেছে, তারা ৩৮৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে তারা।
এরই মধ্যে, একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১২ জন সেনা নিহত ও ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে। 2022 সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সর্বাত্মক হামলা শুরু করে রাশিয়া। এ যুদ্ধের শুরুতে সামরিক শক্তিতে রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেন অনেক কম শক্তিশালী ছিল। তা সত্ত্বেও তারা দ্রুতগতিসম্পন্ন এবং বড় আকারের একটি আক্রমণাত্মক ড্রোন বাহিনী গড়ে তুলেছে, যা রাশিয়ার সেনাবাহিনী ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর আঘাত হানছে।
রোববার সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলের বেলায়া নামের যে বিমানঘাঁটিতে হামলা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে, সেটি ইউক্রেন থেকে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থিত। ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করছে, এই হামলায় রাশিয়ার যে পরিমাণ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে তাতে ক্ষতি প্রায় ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার।
রাশিয়ার এতটা গভীরে ঢুকে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করার সক্ষমতা ইউক্রেনের আক্রমণ কৌশলের উন্নয়ন এবং রাশিয়ার ভেতরে ইউক্রেনের গোপন এজেন্টদের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ। ক্রেমলিনের সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা দেশগুলোরং সহায়তায় ইউক্রেনের অভিযানগুলোর পরিসর ও নির্ভুলতা ধীরে ধীরে বেড়েছে।
এ হামলার আগে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক ও কুরস্ক অঞ্চলে দুটি সেতু ধসে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। রুশ তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, বিস্ফোরণের কারণে সেতু দুটি ধসে পড়েছে।
রাশিয়ার জাতীয়তাবাদী সামাজিক-গণমাধ্যম নেটওয়ার্কগুলোতে এরই মধ্যে এই হামলার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনেকে এই মুহূর্তটিকে ১৯৪১ সালে জাপানের পার্ল হারবারে আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের ওপর আক্রমণের সঙ্গে তুলনা করছেন।
বিবিসি বলেছে — ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল ইস্তাম্বুলে ক্রেমলিনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা করার সময় এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন মস্কো ও ট্রাম্প প্রশাসনকে একটি বার্তা দিয়েছে। সেটি হলো, ইউক্রেন এখনো লড়াইয়ের ময়দানে আছে।


