রাশিয়ার সর্বোচ্চ আদালত তালেবান গোষ্ঠীর ওপর প্রায় ২০ বছরের পুরোনো “সন্ত্রাসী সংগঠন” আখ্যা স্থগিত করেছে। বর্তমান আফগানিস্তানের বাস্তবিক শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার লক্ষ্যেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার তাস সংবাদ সংস্থার বরাতে বিচারক ওলেগ নেফেদভ ঘোষণা করেন, প্রসিকিউটর জেনারেলের অনুরোধে আদালত এই রায় দিয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরও হয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর মস্কোর সঙ্গে ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যদিও ১৯৯০-এর দশকের আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তাদের সম্পর্ক ছিল উত্তেজনাপূর্ণ।
সম্প্রতি আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর আঞ্চলিক শাখা আইএসকেপির বিরুদ্ধে লড়াইসহ কয়েকটি নিরাপত্তাজনিত অভিন্ন স্বার্থ রাশিয়া ও তালেবানকে একত্র করেছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে “মিত্র” হিসেবে আখ্যা দেন এবং তার কাবুলভিত্তিক দূত তালেবানকে নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সরানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। মস্কো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালেবান কর্মকর্তাদের নিয়ে একাধিক ফোরাম আয়োজন করেছে, আফগানিস্তানকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গ্যাস রপ্তানির ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা করছে। গত বছর অক্টোবরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, “মস্কো কাবুলের সঙ্গে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার পথেই থাকবে।”
সম্প্রতি অন্যান্য কিছু এশীয় দেশ এখনো সরকারিভাবে তালেবানকে স্বীকৃতি না দিলেও তালেবানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করেছে। ২০২৩ সালে কাজাখস্তান তালেবানকে তাদের “সন্ত্রাসী সংগঠনের” তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়। কিরগিজস্তানও পরের বছর একই পদক্ষেপ নেয়। চীন, ভারত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশের কাবুলে দূতাবাস রয়েছে । ২০২৩ সালে তালেবান ক্ষমতা নেওয়ার পর চীন প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয়।


