রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত জুলাই মাসের বিদ্রোহে নিহত ১১৪ জন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সকালে কবরস্থান পরিদর্শনকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমরা মরদেহ শনাক্ত করার কাজ শুরু করেছি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারগুলো চাইলে মরদেহ সেখানে রাখতে বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারবে।”
উপদেষ্টা জানান, শুরুতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক থাকলেও এখন তারা সহযোগিতায় রাজি হয়েছেন। তিনি বলেন, “এই কবরস্থানে ১১৪ জন মানুষের একটি গণকবর রয়েছে যাদের এখনো পরিচয় নিশ্চিত হয়নি।”
শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপদেষ্টা দোয়া করেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি কবরস্থানের নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আপনারা নিজ চোখেই দেখতে পাচ্ছেন, এখানে ব্যবহার করা ইট, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর মান খুবই নিম্নমানের। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক যে, যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, তাদের কবরস্থানের নির্মাণেও দুর্নীতি হচ্ছে। এটি কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।”
তিনি সাংবাদিকদের আহ্বান জানান এই দুর্নীতির চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরতে। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “এইসব অনিয়মে জড়িতদের বিচার করা হবে। কেউই পার পাবে না।” এর আগে দিনের শুরুতে উপদেষ্টা মোহাম্মদপুর থানাও পরিদর্শন করেন।
এই ঘটনা একদিকে যেমন জাতীয়ভাবে এক শোকাবহ অধ্যায়কে পুনরুজ্জীবিত করেছে, তেমনি প্রশ্ন তুলেছে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে। অজ্ঞাত এই শহীদদের পরিচয় উদঘাটনের মাধ্যমে শুধু তাদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্য একটি নৈতিক দায়বোধ পূরণ হতে পারে।
অন্যদিকে শহীদদের কবরের ক্ষেত্রেও যদি দুর্নীতির চর্চা চলতে থাকে, তাহলে তা শুধু সরকারের প্রতি নয়, জাতির চেতনার প্রতিও এক ধরনের অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে।


