বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংবিধানসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে ব্যাপক তৎপরতা দেখালেও নিজেদের দলীয় সংস্কার কিংবা দলের মধ্যে গণতন্ত্র নিশ্চিত করার কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নিয়েছে, এমনটি দেখা যাচ্ছে না। বড়-ছোট বেশিরভাগ দলই কার্যত তাদের শীর্ষ নেতার একক নিয়ন্ত্রণ ও ইচ্ছায় পরিচালিত হচ্ছে বলেই দৃশ্যত প্রতীয়মান হয়, যদিও সব দলই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হওয়ারই দাবি করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, “দলগুলো নিজেরা নির্বাচন চায়, কিন্তু দলের ভেতরের নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আনতে চায় না। ব্যক্তি ও পরিবারকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের হাতেই দলের মধ্যকার আকাঙ্ক্ষিত সংস্কার আটকে আছে।”
বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলে সংস্কারের বিষয়টি জোরেশোরে উঠে এসেছিলো ২০০৭ সালে রাজনৈতিক সহিংসতার জের ধরে ক্ষমতায় আসা সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে। তখন সরকার ও নির্বাচন কমিশন দল পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও গঠনতন্ত্রকে আরও গণতান্ত্রিক করতে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলো। বিশেষ করে দলীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী, নির্বাচনি হলফনামায় আটটি ব্যক্তিগত তথ্য দেয়া, দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা, বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য তৃণমূলের ভোটে প্যানেল প্রস্তুত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বিধান রাখা কিংবা দলের আর্থিক হিসাব-নিকাশ নির্বাচন কমিশনকে দেয়ার মতো কিছু বিষয় চালু হয়েছিলো।
তখন দল গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত না হলে বা নিবন্ধনের শর্ত পূরণ না হলে নিবন্ধন বাতিলের ক্ষমতাসহ একটি অধ্যাদেশও জারি হয়েছিলো। যদিও পরবর্তীতে অনেক দলই শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকে সচেতনভাবে দূরে সরিয়ে রেখেছে এবং ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি কার্যকর করেনি। আর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব কোনো রাজনৈতিক দল সততার সাথে দেয় কি-না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক দল কাউন্সিল করলেও শেষ পর্যন্ত নেতা নির্বাচনের ক্ষমতা দেয়া হয় শীর্ষ নেতৃত্বকে। নির্বাচনকালে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও দেখা যায় শীর্ষনেতার ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলন।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন দৃঢ়তা দেখালে রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতন্ত্রায়ণ অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।


