জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সহস্রাধিক হত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি এলেও এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সবার ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। অভ্যুত্থানকারী তরুণরা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি তুললেও বিএনপিসহ অপরাপর রাজনৈতিক দলের সায় মিলছে না। এই অবস্থায় ড. ইউনূসের অবস্থান বিবিসি বাংলা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওই যে ঐকমত্য। আমরা বরাবরই ফিরে যাচ্ছি ঐকমত্যে। সবাই মিলে যা ঠিক করবে আমরা তাই করব।”
আওয়ামী লীগ কি নিষিদ্ধ হবে বা রাজনীতি করবে কি না বা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না- এই প্রশ্নে সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান তিনি। ড. ইউনূস বলেন, “আমি অত ডিটেইলসে যাচ্ছি না। আমার বরাবরই পজিশন হলো যে আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক। আমাদের এই দেশের ওপরে সমান অধিকার। আমরা সব ভাই ভাই। আমাদেরকে এই দেশেই বাঁচতে হবে। এ দেশকেই বড় করতে হবে। “কাজেই যে মত-দল করবে, তার মতো করে সবকিছু করবে। এই দেশ থেকে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনও উপায় নাই। কিন্তু যে অন্যায় করেছে, যার বিচার হওয়া উচিৎ, তার বিচার হতে হবে। এটুকুই শুধু।”
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস।
তিনি বলেন, “একটা পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব চলে গেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে এটাকে (দেশটাকে) আনসেটেল (অস্থিতিশীল) করার জন্য।” আওয়ামী লীগের প্রতি মানুষের ক্ষোভের কথা তুলে ধরে ডঃ ইউনুস বলেন – “তারা মাঝে মাঝেই ঘোষণা করছে। বক্তৃতা দিচ্ছে। এড্রেস করছে। আপনি-আমরা সবাই শুনছি। মানুষ উত্তেজিত হচ্ছে। কর্মসূচি দিচ্ছে- হরতাল করো, অমুক করো। মানুষ কীভাবে নেবে এটাকে বলেন? এটা কি মিষ্টি মুখে চলে যাবে সব?”


