“… সরকারের দুর্বলতা যেহেতু স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, তাই বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানকেই সমাধান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কিন্তু সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মতভেদ সবকিছুকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সরকারের ভেতরে একটি অংশও যেহেতু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পক্ষে, তাই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল অংশী হিসেবে আমরা যাদের বিবেচনা করতে পারি (সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, বিএনপি, এনসিপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তি), বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যেও বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এই ঘোলাটে পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য কোনো না কোনো পক্ষ যে ওত পেতে আছে, সেই শঙ্কার কথা আগেই বলেছি।
এমন একটি বাস্তবতায় সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, বিএনপি ও এনসিপি—কোনো একটি পক্ষের ভুল পদক্ষেপ পরিস্থিতি শোচনীয় করে তুলতে পারে। এতে চূড়ান্ত বিচারে লাভবান হবে গণ-অভ্যুত্থানের পরাজিত ও পতিত শক্তি।
আমরা দেখতে পাচ্ছি, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে ইশরাক হোসেনের পুনর্বহাল নিয়ে বিএনপি ও সরকারের এক উপদেষ্টা এবং সেই সূত্রে এনসিপির বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। ইস্যুটি বড় না হলেও দুই পক্ষই সম্ভবত একে রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের একটি উপলক্ষ হিসেবে বেছে নিয়েছে। অনেকেই এ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন।
দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠীর যৌক্তিক-অযৌক্তিক ও বিচিত্র দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হওয়া, মব সৃষ্টি, কথায় কথায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি বা কর্মসূচির হুমকি, বন্দরের পরিচালনা বিদেশিদের দেওয়া না দেওয়া, রাখাইন রাজ্যের জন্য করিডর ইস্যু, ভারতের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি যে জটিল হয়ে পড়েছে, তা দেশের মানুষ টের পাচ্ছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কি এখন বিএনপি ও এনসিপির বিরোধ বা এ নিয়ে কোনো সংঘাতের ভার গ্রহণ করার মতো অবস্থায় রয়েছে? …”


