শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে জড়ো হন হাজারো বাসিন্দা। একপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ, বাড়িঘর-দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ফলে কারফিউ জারি হয়। সংঘর্ষে নিহত হন ২ জন, আহত অন্তত ১৭ জন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করে বলেন দেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন, মানুষের ভালো চাকরি, শান্তি ও সুশাসন পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি শুধু খারাপের দিকেই যাচ্ছে। এদিকে, রাজধানীর অন্য স্থানে প্রজাতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষা করতে হাজারো মানুষ জড়ো করে রাজনৈতিক দলগুলো। কমিউনিস্ট নেতা ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহল বলেন, নেপালিরা অতীতে ফিরে যাবে না।
নেপালে রাজতন্ত্র বিলুপ্তের সিদ্ধান্তের জন্য ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচন হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ২৩৯ বছরের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে নেপাল হিন্দু রাজ্য থেকে ধর্মনিরপেক্ষ ফেডারেল প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে নেপালের শেষ রাজা ৭৭ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র কাঠমান্ডুর বাড়িতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করছেন। এর আগে ১৯৯৬-২০০৬ সালের মাওবাদী বিদ্রোহে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পর থেকে গত ১৬ বছরে নেপালে ১৪টি সরকার গঠন হয়েছে।রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যার ফলে লাখ লাখ তরুণ কাজের সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছেন।
নেপালের অর্থনীতি মূলত পর্যটন ও বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ পর্বতের মধ্যে ৮টি নেপালে অবস্থিত, যার মধ্যে মাউন্ট এভারেস্টও রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই দাবি আসলে বর্তমান শাসনব্যবস্থায় জনগণের হতাশারই প্রতিফলন। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে রাজতন্ত্র ও হিন্দু রাষ্ট্রধর্ম ফিরিয়ে আনার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তবে রাজতন্ত্রে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন তারা।
নেপালের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ভারতীয় সাংবাদিক অর্ক ভাদুড়ী শুক্রবার এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন “মেইনস্ট্রিম কমিউনিস্ট পার্টিগুলি এবং নেপালি কংগ্রেসের মতো দল জনগণের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। নয়া নেপালের নেতারা নিজেদের যাবতীয় সম্ভাবনাকে বলি দিয়েছেন নয়া উদারবাদী অর্থনীতির যূপকাষ্ঠে। তাঁরা নিজেদের পরিণত করেছেন বড় ভূরাজনৈতিক শক্তিগুলির ক্রীড়নকে। কমিউনিস্ট শক্তিগুলি টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে অর্ন্তবিরোধে। এই সবকিছুর প্রেক্ষিতে বৃহৎ শক্তির মদতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দক্ষিণপন্থা। মদত দিচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির মতো ডানপন্থী রাজনৈতিক দল।…”


