গাজায় আটক এক মার্কিন-ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হামাস। একইসঙ্গে জানায়, যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে তারা কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করছেন।
এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি সংগঠনটি জানায়, ‘যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা এবং মানবিক ও ত্রাণ সহায়তার দ্বার ফের খুলবে এমন প্রত্যাশায় এ ঘোষণা দিয়েছেন তারা।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে একে “ঐতিহাসিক খবর” ও “সৎ প্রচেষ্টার লক্ষণ” বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আরো বলেন, “আশা করি, নির্মম যুদ্ধ অবসানে এটিই প্রয়োজনীয় ও চূড়ান্ত পদক্ষেপগুলোর শুরু।”
জিম্মি মুক্তির ঘোষণাকে “সদিচ্ছার প্রকাশ ও আলোচনায় ফেরার ইতিবাচক পদক্ষেপ” বলে যৌথ বিবৃতিতে অভিহিত করেছে হামাস-ইসরায়েল আলোচনার মধ্যস্থতাকারি যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার।
তবে এসব আলোচনার মধ্যেও ইসরায়েল গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, “যুদ্ধের সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত গোলাগুলির মধ্যেই আলোচনা চলবে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো এ বছরের মার্চে হামাসের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ শুরু করে। এর আগে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস-ইসরায়েলের মধ্যে একাধিক পরোক্ষ আলোচনা হলেও যুদ্ধ থামেনি।
এর আগে হামাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নেতানিয়োহু। এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ বলেছেন — গাজা যুদ্ধ ইসরায়েল নিজেই দীর্ঘ করছে। বন্দি বিনিময়ের আলোচনাতেও তারা বাধা দিচ্ছে।
রোববার (১১ মে) ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রচারিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় আটক ইসরায়েলি বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে এক বৈঠকে উইটকফ এই মন্তব্য করেন।
তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, ‘এই যুদ্ধ এখন আর কোনো অগ্রগতি আনছে না, এখন যুদ্ধ থামিয়ে বন্দি বিনিময়ের চুক্তিই সবচেয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।’
উইটকফের বক্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ- সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফর চলবে মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার (১৩ থেকে ১৬ মে) পর্যন্ত। তবে এই সফরে ইসরায়েল যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
সম্প্রতি মার্কিন ও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে টানাপোড়েন বেড়েছে। ট্রাম্পের দল এখন ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব নীতিতে এগোতে চাইছে।


