সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তি, সম্পর্কের উন্নতি এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা নিয়ে আলোচনা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাত সফলভাবে মধ্যস্থতা করতে সক্ষম একটি বৈশ্বিক শক্তি হয়ে উঠতে চায় সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া বৈঠকের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশটির সেই আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বৈঠকটি আয়োজনের আরও একটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হলো, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলাপ-আলোচনার জন্য অতিরিক্ত ক্ষমতা ও প্রভাব অর্জন করা। সৌদি আরবে এই বৈঠকের আয়োজনকে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিজয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি সৌদি আরবকে জ্বালানি তেলসমৃদ্ধ দেশ এবং রক্ষণশীল ইসলামি ভাবধারা থেকে বের করে বিশ্ব রাজনীতিতে পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারকারী দেশে পরিণত করার চেষ্টা করছেন।
এটি সৌদি আরবের বড় পরিবর্তনেরই একটি অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশটি বিভিন্ন বৈশ্বিক সংঘাতে নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করেছে। মূলত শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণের আশায় দেশটি তাদের নীতিতে পরিবর্তন এনেছে। প্রত্যাশিত এসব বিনিয়োগ সৌদি যুবরাজের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভিশন ২০৩০-এর মধ্য দিয়ে সৌদি আরবের জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনা করছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রতিবেশী ইয়েমেনে হুতিদের সঙ্গে বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ থেকে সরে এসেছেন তিনি। আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করার চেষ্টাও করছেন। এ ছাড়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন। পশ্চিমাদের সঙ্গেও সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
অন্যদিকে, গাজার ভাগ্য নিয়ে আরব বিশ্ব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, সেটা ঘোচাতে সৌদি আরব বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দুই দেশের মধ্যে বৈঠকের মধ্যস্থতাকে পুঁজি করতে পারে। ট্রাম্পের বিতর্কিত গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং স্থায়ীভাবে ফিলিস্তিনিদের অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা আরব দেশগুলো ইতিমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সৌদি আরবে বিষয়টি নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেখানে গাজার বিষয়ে ভিন্ন একটি প্রস্তাব তৈরির বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। সেটি পরে ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হবে।


