ট্রাম্পের বেপরোয়া শুল্কনীতিতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ভিয়েতনাম কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে। কারণ একদিকে তাদের বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং নিরাপত্তা অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে, অন্যদিকে শীর্ষ বিনিয়োগের উৎস এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করার ঝুঁকিও নিতে চাইছে না। যেখানে দক্ষিণ চীন সাগরে সীমান্ত নিয়ে চীন-ভিয়েতনাম বিরোধ বহুদিন ধরে চলে আসছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ এড়াতে ভিয়েতনামের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো চীনা পণ্যের ওপর কঠোর নজরদারি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হ্যানয় সরকার। শুধু তাই নয়, চীনমুখী সংবেদনশীল রপ্তানির ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রণ জোরদারের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
এই পদক্ষেপের প্রস্তাব এমন সময়ে এল, যখন হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোসহ ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এই ধারণা থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, চীনা পণ্য কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ‘মেড ইন ভিয়েতনাম’ লেবেল ব্যবহার করা হচ্ছে। ভিয়েতনাম বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছিল, যাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্তের বিষয়ে নমনীয় থাকেন। তবে এর পরও ট্রাম্প ভিয়েতনামের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। রপ্তানিনির্ভর ভিয়েতনাম আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে এই শুল্ক ২২ থেকে ২৮ শতাংশের মধ্যে বা তারও নিচে নামিয়ে আনা যাবে।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকে অনেক বহুজাতিক সংস্থা বেইজিংয়ের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভিয়েতনামে কারখানা স্থাপন করে ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতি বাস্তবায়ন করেছে। ভিয়েতনামের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে প্রবাহিত সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রেও হ্যানয় কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ভিয়েতনাম সেমিকন্ডাক্টরের মতো দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য পণ্যের রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে চায়। এ ধরনের ইলেকট্রনিকস বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজেই ব্যবহার করা যায়।
মার্কিন সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) উন্নয়নকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে। ওয়াশিংটন অত্যাধুনিক মার্কিন চিপ চীনে সরবরাহ বন্ধ করতে পদক্ষেপ নিয়েছে। ভিয়েতনামের কূটনীতিকদের বৃহৎ শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আগামী সপ্তাহে চীনা নেতা শি চিনপিং হ্যানয় সফরে ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য চীনা জেট বিমান ইজারা নেওয়া ও কেনার পথ খুলতে পারে। গত সপ্তাহেই ভিয়েতনামের বিমান সংস্থাগুলোর বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঋণ চুক্তির ঘোষণা আসে। আর এরপরই চীনের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তির আভাস মিলছে।


