বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ও সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। নিউইয়র্ক টাইমস সিয়েনা কলেজের জরিপে দেখা যায়, দেশটির প্রায় অর্ধেক সংখ্যক ভোটার মনে করছেন সরকার তাদের জীবনমানের উন্নয়নে তেমন কোনো কাজ করছে না। ৪৫ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন, দেশের গণতন্ত্র সাধারণ মানুষের স্বার্থে কোনো ভালো কাজ করছে না। তিন-চতুর্থাংশ (৭৬%) ভোটার বলেছেন, গণতন্ত্র হুমকির মধ্যে রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার বিশ্বাস করেন, দেশটি দুর্নীতিতে জর্জরিত। ৬২ শতাংশ বলেছেন, সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে নিজের এবং অভিজাতদের সুবিধার জন্য কাজ করছে।
নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, এ ধরনের অনাস্থার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল উল্টে দেওয়ার জন্য ট্রাম্পের মদদে সহিংস দাঙ্গা, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁর দোষী সাব্যস্ত হওয়া এবং ভোটে কারচুপি অব্যাহত রাখার অভিযোগ তোলার মতো ঘটনা গণতন্ত্রের ওপর ভোটারদের বিশ্বাসে ক্ষয় ধরছে। এ ছাড়া অসহনীয় মুদ্রাস্ফীতি, বিভাজনমূলক সাংস্কৃতিক যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ভোটাররা আমেরিকার রাজনীতি এবং সরকার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এ ধরনের হতাশা থেকে ৫৮ শতাংশ মার্কিন ভোটার বিশ্বাস করেন, দেশের আর্থিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন বা ব্যাপক সংশোধন প্রয়োজন। এসব হতাশা ও ক্ষোভ সত্ত্বেও রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্রসহ প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার বিশ্বাস করেন-২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নির্ভুল হবে। দুই বছর আগের চেয়ে এ ক্ষেত্রে আস্থা বেড়েছে।


