ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে এবং এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করতেও প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ৮ এপ্রিল ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকায় প্রকাশিত এক মতামত কলামে তিনি ঘোষণা করেন, ‘আমরা ওমানে শনিবার পরোক্ষ আলোচনায় বসব। এটি যেমন একটা সুযোগ, তেমন একটা পরীক্ষাও।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অবশ্য বলেছেন, এ আলোচনা ও চুক্তি সইয়ের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অবশ্যই প্রথমে কোনো ‘সামরিক পদক্ষেপকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করার’ বিষয়টি বাদ দিতে রাজি হতে হবে। আবার, ইরান ‘কখনোই জোরজবরদস্তি মেনে নেবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে ট্রাম্প সতর্ক করে দেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তরফে সম্ভাব্য সামরিক হামলার সম্মুখীন হওয়া এড়াতে একটি চুক্তি করতে চান তিনি। পরে সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সঙ্গে একটি বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আসন্ন আলোচনার খবরটি প্রকাশ করেন। পরদিন মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা দুজনই সম্মত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে দেশটির বিরুদ্ধে ‘সামরিক বিকল্প’ গ্রহণ করা হবে।
ট্রাম্প প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে তাঁর দেশকে বের করে আনেন। ২০১৫ সালে ওই চুক্তি সই হয়। ইরান বরাবর জোর দিয়ে বলেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনো পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন করতে বা এটির অধিকারী হতে চায় না। তবে, ইরানের ওপর ৭ বছর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর এর প্রতিশোধ হিসেবে দেশটি বিদ্যমান পরমাণু চুক্তির বিধিনিষেধ ক্রমেই বেশি লঙ্ঘন করে আসছে। ইতিমধ্যে দেশটি কয়েকটি পরমাণু বোমা তৈরিতে যথেষ্ট উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত গড়ে তুলেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ও চুক্তি সইয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েল ইরানে হামলা চালিয়ে পরমাণু স্থাপনাগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসের পক্ষে। কিন্তু, ট্রাম্প এখন কূটনৈতিক সমঝোতার পথে হাঁটছেন। নেতানিয়াহুর উপস্থিতিতে সোমবার ট্রাম্প বলেন যুদ্ধ নয়, চুক্তিই শান্তির পথ।


