যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং ইউরোপজুড়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইউরোপের ইস্পাত শিল্প চরম মন্দার মুখে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্কের প্রভাবে ইউরোপের বাজারে সস্তা ইস্পাতের প্রবাহ বেড়েছে। এই অতিরিক্ত আমদানির চাপ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস ইউরোপের ইস্পাত বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বর্তমানে ইস্পাত বাজারে মূল্য অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে, এটি বছরের বাকি সময়জুড়ে আরও তীব্র হতে পারে। হেলেনিক শিপিং নিউজ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজারে সস্তায় আমদানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির প্রভাবে ইউরোপীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন।
২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ইস্পাত খাতের কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানি আর্সেলরমিত্তাল, আউটোকুম্পু এবং অ্যাপেরাম তাদের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ করে। এর মধ্যে আর্সেলরমিত্তালের আয় বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে মিল থাকলেও, আউটোকুম্পু ও অ্যাপেরাম বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। যদিও কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তাদের মুনাফা কমে যেতে পারে। এই পূর্বাভাসের প্রভাব বাজারে দ্রুত পড়ে , লেনদেন চলাকালে দুই কোম্পানির শেয়ারের দাম ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়।
এছাড়া স্পেনের এসেরিনক্স ও সুইডেনের এসএসএবি পূর্বেই সতর্ক করেছিল যে তারা প্রত্যাশিত আয় অর্জন করতে পারছে না। তাদের মতে মার্কিন শুল্ক ও ইউরোপের অর্থনৈতিক দুর্বলতা মিলিয়ে বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে অনেক ইস্পাত রফতানি ইউরোপে ঘুরে আসতে পারে যার ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়ে মূল্য আরও নিচে নামতে পারে। এশিয়া থেকে সস্তা আমদানির সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে ইউরোপীয় ইস্পাত উৎপাদকরা মারাত্মক প্রতিযোগিতায় পড়বেন যা এই শিল্পের স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।


