যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু নীতির বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজ্যগুলির জলবায়ু নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত পদক্ষেপ হিসেবে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। এই আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন দেশজুড়ে রাজ্যগুলির শক্তি ও পরিবেশ নীতির উপর হস্তক্ষেপ করতে চায়, যার মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার জন্য পাস করা আইনগুলোকে বাধাগ্রস্ত করা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই পদক্ষেপটি দেশের শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধির এবং জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত নীতির বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘকালীন অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

নির্বাহী আদেশের মূল লক্ষ্য: ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা এমন রাজ্য আইনগুলো চিহ্নিত করে, যা জলবায়ু পরিবর্তন, ESG (Environmental, Social, Governance), পরিবেশগত ন্যায়বিচার এবং কার্বন নির্গমন বিষয়ক। এই আইনগুলোকে পর্যালোচনা করে এবং যেগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা ব্লক করতে পদক্ষেপ গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে এসব রাজ্য আইনগুলি আমেরিকার শক্তি আধিপত্য এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, নিউইয়র্ক এবং ভারমন্টের মতো রাজ্যগুলির আইনগুলির কথা, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানিগুলিকে জলবায়ু পরিবর্তনে অবদান রাখার জন্য জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘অনেক রাজ্য ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ বা শক্তি নীতির নামে এমন আইন তৈরি করেছে, যা দেশের শক্তি উৎপাদন এবং নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে।’ তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাপ-অ্যান্ড-ট্রেড নীতি এবং রাজ্যগুলো দ্বারা তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, যা, তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি উৎপাদন শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হচুল এবং নিউ মেক্সিকোর গভর্নর মিশেল লুজান গ্রিশাম, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ু জোটের নেতৃত্বে রয়েছেন, তারা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে রাজ্যগুলির পরিবেশগত নীতি বাস্তবায়নের অধিকার খর্ব করা যাবে না। তারা বলেছেন, ‘আমরা জলবায়ু সংকটের সমাধান এগিয়ে নিয়ে যাব, যা আমেরিকানদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করবে, পরিচ্ছন্ন শক্তি অর্থনীতি বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতকে আরও স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ করবে।’

অন্যদিকে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট (API) এই নির্বাহী আদেশকে স্বাগত জানিয়েছে। API’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রায়ান মেয়ারস বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পদক্ষেপ রাজ্যগুলিকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করবে, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে।’ ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে বড় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, এই পদক্ষেপটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বাধা সৃষ্টি করবে এবং পরিবেশ সুরক্ষা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির বিকাশের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করবে। রিপাবলিকানদের মতে এটি শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ, যা দেশের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখবে।

ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশটি একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও পরিবেশগত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু পরিবেশ নীতির সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি উৎপাদন এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একটি বড় সিদ্ধান্তের বিষয়। এখন সময় বলে দেবে যে, এই পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী হবে এবং কীভাবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি নীতি ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলার কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করবে।



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন