বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের (অর্থ মন্ত্রণালয়) অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু দিল্লি থেকে আজ ঢাকায় এসে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। মার্কিন প্রতিনিধি দলটি প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র জানান- আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়ন অগ্রাধিকারে অবদান রাখতে পারে তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে- সফরকালে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবেন। প্রতিনিধি দলে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ, ইউএসএআইডি এবং মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা থাকবেন। নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে মার্কিন দলের বৈঠক হবে বলে আশা করছেন সরকারের কর্মকর্তারা। পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন- অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রতিনিধি দল আসছে; তারা যে এই সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয় সেটির বড় প্রতিফলন ঘটছে এর মাধ্যমে। প্রতিনিধি দলের সদস্যদের পরিচয় দেখলে বোঝা যায় এই আলোচনা বহুমাত্রিক হবে। এটি শুধু একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে মধ্যে সীমিত থাকবে না। আমরাও এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়া পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে ওয়ার্কিং লাঞ্চ করবে দলটি। পৃথকভাবে দলের কয়েকজন সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে টেকনিক্যাল মিটিং করবেন।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। স্বাভাবিকভাবে এবারের সফরে মূল আলোচনার ফোকাস আর্থিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন- কয়েকটি ক্ষেত্রে ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের বিশেষায়িত জ্ঞান রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকিং খাত সংস্কার, মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে নজরদারিসহ (ফিন্যান্সিয়াল ওয়াচডগ) রয়েছে। আমাদের যেকোনও ধরনের কারিগরি সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান দিতে রাজি আছে যুক্তরাষ্ট্র। এক্ষেত্রে নির্দিষ্টভাবে তাদের কাছে যদি আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরা সম্ভব হয়, তবে সহায়তা করবে তারা। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন- ব্যাংকিং খাতে অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহায়তা চাইলে তারা সহায়তা করবে। ঢালাওভাবে ব্যাংকিং খাতে সমস্যা সমাধানে সহায়তা চাইলে সেটি কার্যকর হবে না।
সাধারণভাবে অন্য দেশকে ঋণ দেয় না যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনকে বৃহৎ আকারে ঋণ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কিন্তু সেটি বিশেষ পরিস্থিতির কারণে। ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হওয়ার কারণে বিষয়টি অনেক জটিল। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন- যুক্তরাষ্ট্র সাধারণভাবে ঋণ দেয় না। এরপরও যদি কেউ ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করে, তাদের নির্বাচনের বছরে এটি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন- তবে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেমন- বিশ্বব্যাংক বা আইএমএফ থেকে ঋণ পেতে সহায়তা করতে পারে।


