ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (BoE) বৃহস্পতিবার তাদের মূল সুদের হার এক চতুরাংশ শতাংশ কমিয়ে ৪.২৫ শতাংশে নামিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কারণে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে সম্ভাব্য ধাক্কা লাগার আশঙ্কার প্রেক্ষিতে। গত আগস্ট থেকে এটি ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের চতুর্থবারের মতো হার কমানোর পদক্ষেপ।
এই সিদ্ধান্তটি অর্থনীতিবিদদের কাছে প্রত্যাশিতই ছিল, তবে ব্যাংকের নয় সদস্যের নীতিনির্ধারণী কমিটিতে মতপার্থক্য ছিল স্পষ্ট। দুইজন সদস্য বড় পরিসরে অর্থাৎ অর্ধ-শতাংশ (০.৫%) কমানোর পক্ষে ভোট দেন, যেখানে আবার অন্য দুইজন সদস্য বর্তমান হারের পক্ষেই অবস্থান নেন।
ব্যাংক গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহ আমাদের দেখিয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনীতি কতটা অনিশ্চিত হতে পারে। এজন্য আমাদের ধাপে ধাপে ও সতর্কভাবে হার কমানোর নীতি গ্রহণ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের শীর্ষ অগ্রাধিকার হলো নিম্ন ও স্থিতিশীল মুদ্রাস্ফীতি নিশ্চিত করা।”
উল্লেখ্য এই হার কমানোর সিদ্ধান্তটি ট্রাম্প প্রশাসনের এপ্রিলের শুরুতে নতুন শুল্ক ঘোষণার পর নেওয়া প্রথম বড় নীতিগত পদক্ষেপ। যদিও বাজারে ব্যাপক অস্থিরতার পর অধিকাংশ শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে, এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশের বেসলাইন শুল্কও রয়েছে। তবুও বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত থেকে যাচ্ছে।
এরই মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও আসতে পারে, কারণ বৃহস্পতিবারের শেষ ভাগে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য মধ্যকার একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা আসার কথা। আশা করা হচ্ছে, এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শুল্কের বোঝা অনেকটাই কমাবে। ট্রাম্প নিজেও ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেছেন, “এটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও ব্যাপক চুক্তি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক বহু বছরের জন্য মজবুত করবে।”
তবে শুল্ক বোঝা কমলেও বড় অনিশ্চয়তা থেকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এই হার কমানোর পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে আগামী কয়েক মাসে মুদ্রাস্ফীতি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার ২.৬ শতাংশ, যা এপ্রিল মাসের বিদ্যুৎ, পানি বিল বৃদ্ধি এবং কর বৃদ্ধিজনিত খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার ফলে আরও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
তবে গভর্নর বেইলি আশ্বাস দিয়েছেন, “যদিও সামনের মাসগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে, আমরা মনে করি তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দুই বছরের মধ্যে তা আবার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি ফিরে আসবে।”
অপরদিকে যেখানে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি সুদের হার কমিয়েছে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ বুধবার হার অপরিবর্তিত রেখেছে। তারা অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রভাব দেশটির অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ে তা বোঝার জন্য।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক লুক বারথলোমিউ বলেন, “আমরা এখনো মনে করি ব্যাংক অব ইংল্যান্ড এ বছর অন্তত আরও দুবার হার কমাবে। তবে নীতিনির্ধারণী কমিটির তিনমুখী বিভাজন তাদের বার্তা স্পষ্টতায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।”


