দেশের অর্থনীতি এখনো চাপে আছে, কিন্তু পথেই এগোচ্ছে। কোনোভাবেই অর্থনৈতিক মন্দা বা দুর্ভিক্ষ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে মোট দেশজ উৎপাদন বেশ কমে যাবে। ঊর্ধ্বগতির মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরও ৮ মাস সময় প্রয়োজন হতে পারে। দুর্বল আর্থিক খাতকে টেনে তুলতে আরও ২-৩ বছর লাগবে। সোমবার বণিক বার্তা আয়োজিত ‘বৈষম্য, আর্থিক অপরাধ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির নিরাময়’ শীর্ষক তৃতীয় অর্থনৈতিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। আলোচনায় অংশ নেন সরকারের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও বিশ্লেষকেরা।
গভর্নর বলেন, এক ব্যাংকের ২৭ হাজার কোটি টাকাই নিয়ে গেছে একটি পরিবার। কমবেশি একই অবস্থা হয়েছে অন্যান্য ব্যাংকেরও। এই ধাক্কা সামলাতে হাতে তো ম্যাজিক নেই। তাই সৃষ্ট সমস্যার দ্রুত সুরাহাও হয়তো হবে না, তবে সমাধানের জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিদিনই সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দেওয়া হচ্ছে তারল্য সহায়তাও। তবে কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। আর্থিক খাতের এই দুর্বলতার ছাপ দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ভবিষ্যতের কিছু করা সম্ভব হয়নি; বরং আগের জের টানতে হচ্ছে। এখন সেগুলোরই সংশোধনমূলক কাজ করতে হচ্ছে। সবকিছু ঠিক হতে ২-৩ বছর লাগবে।
অর্থনৈতিক মন্দা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির ওপর অনেক ঝড়-ঝঞ্ঝা গেছে। তাই বলে আমরা কিন্তু শ্রীলঙ্কা হইনি। আমাদের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়নি। অর্থনীতিও ধসে পড়েনি। হতে পারত, কিন্তু হয়নি। এমন ইস্যুতে উপলব্ধি থাকতে হবে যে বাংলাদেশ মন্দা এড়াতে পেরেছে। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের যে চেষ্টা, তা সঠিক পথেই আছে। এ কারণে চলতি অর্থবছরের গত চার মাসে প্রবৃদ্ধি কমেনি। এভাবে অর্থনীতি চললে বাংলাদেশে কোনো দুর্ভিক্ষ হওয়ার সুযোগ নেই।’ সম্মেলনে অন্যান্য বক্তারা বলেন- দেশে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গত দেড় দশকে বৈষম্য বেশি বেড়েছে। বৈষম্য বহুমাত্রিক; সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন ঘটছে, তা বৈষম্য নিরসনে সহায়ক নয়। সে জন্য উন্নয়নের নতুন ধারা তৈরি করতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারকে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বস্তি (মূল্যস্ফীতি ও অন্যান্য)-এই চারটি বড় জায়গায় জোর দিতে হবে। এর মধ্যে সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য নিয়ে সচেষ্ট রয়েছে। অন্য তিনটি জায়গা উন্নতি করতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার।


