মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সমাধি সরিয়ে ফেলার দাবিতে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাগপুরে রাস্তায় নামে কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। বিক্ষোভকারীরা আওরঙ্গজেবের সমাধির কুশপুত্তলিকা পোড়ায়। তাদের ভাষ্য, ১৬৫৮ থেকে ১৭০৭ সাল পর্যন্ত নিজের শাসনামলে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করেছেন আওরঙ্গজেব। তাঁর আমলে নানা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন হিন্দুরা। ভেঙে দেওয়া হয়েছে অনেক মন্দির। স্থানীয় মুসলমানেরা চেয়েছিল, পবিত্র রমজানে এমন বিক্ষোভ বন্ধ হোক। পুলিশের কাছে তাঁরা সেই আরজিও জানিয়েছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধায় একটি গুজব। পরিস্থিতি যখন উত্তপ্ত, তখন হঠাৎ চাউর হয়—আওরঙ্গজেবের কুশপুত্তলিকা যে সবুজ কাপড়ে মোড়ানো ছিল তাতে কোরআনের আয়াত লেখা ছিল।
আর এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় মুসলমানেরা। ইফতারের পর কোরআন অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল নিয়ে মাঠে নামেন তারা। একপর্যায়ে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলছেন, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বলিউড চলচ্চিত্র ‘ছাভা’ এই দাঙ্গাকে প্রভাবিত করেছে। এটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সঙ্গে মারাঠাদের দ্বন্দ্বের ওপর নির্মিত, যেখানে আওরঙ্গজেবকে খলনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই সিনেমা হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিকে নতুন করে জাগ্রত করে আওরঙ্গজেবের বিরুদ্ধে জনসাধারণের ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো আওরঙ্গজেবকে ভারতের আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস খলনায়ক হিসেবে দেখে আসছে। তবে ইতিহাসবিদরা মনে করেন, আওরঙ্গজেবের শাসনকে এত সরলীকরণের সুযোগ নেই।
২০২২ সালে বারাণসীর এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘আওরঙ্গজেব বর্বরতা, তাঁর সন্ত্রাস—তলোয়ারের জোরে সভ্যতা বদলাতে চেয়েছিল। ধর্মান্ধতার মাধ্যমে ধ্বংস করতে চেয়েছিল সংস্কৃতিকে।’ এরপরও তিনি বহুবার ঔরঙ্গজেবের প্রসঙ্গ তুলেছেন। মোদির সমর্থকদের কাছে, আওরঙ্গজেব কেবল অতীতের এক চরিত্র নন; তাদের কাছে এই সম্রাট হিন্দুবিদ্বেষী শাসক, যিনি বহু মন্দির ধ্বংস করেছেন বলে তাদের দাবি। তবে, তিনি বেশ কিছু হিন্দু মন্দিরের জন্য জমি ও আর্থিক অনুদানও দিয়েছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা উত্তর প্রদেশের বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদের মালিকানা দাবি করছে। তারা বলছে, এই মসজিদ ১৬৬৯ সালে আওরঙ্গজেবের আদেশে ধ্বংস হওয়া বিশাল বিষ্ণুনাথ মন্দিরের ধ্বংসাবশেষের ওপর নির্মিত। ২০২২ সালে মোদি সরকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক ইতিহাস বইগুলো থেকে মুঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সংক্রান্ত পাঠের অংশ বড় পরিসরে ছেঁটে ফেলে, যার মধ্যে আওরঙ্গজেব ও তার পূর্বপুরুষদের বিভিন্ন অর্জনের তথ্যও ছিল।


