মিয়ানমারে চীনা নিরাপত্তা কর্মী ও উত্তেজনার নতুন মাত্রা

বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য মিয়ানমারে চীনা নিরাপত্তা কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে চীনা নাগরিকরা মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এতে সম্ভাব্য মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে এবং কূটনৈতিক সংকট উস্কে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করার অনুমতি দিতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাজি করাতে গিয়ে চীনের নিরাপত্তা কর্মীরা ‘ব্যাপক চ্যালেঞ্জের’ সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে যেহেতু অনেক প্রকল্পের অবস্থান বর্তমানে বিরোধীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।

বিবিসি প্রতিবেদন বলছে- মিয়ানমারে ইতোমধ্যে দিক চারটি চীনা বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি কাজ করছে। প্রস্তাবটি আগস্টে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মিয়ানমার সফর এবং এই মাসের শুরুতে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হাইংয়ের প্রথম চীন সফরের পর উত্থাপিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রভাষক অ্যাডাম সিম্পসন বলেছেন, চীনা বেসরকারি সামরিক করপোরেশনগুলো নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে চীনা নাগরিকদের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং সম্ভবত প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি কুটনৈতিক ঘটনার জন্ম দেবে।’ তিনি বলেন, এই চীনা কোম্পানির উপস্থিতি জান্তার পক্ষ থেকে একটি ‘বিব্রতকর স্বীকৃতি’।


সিম্পসন বলেন, তারা যে মিয়ানমারে চীনা স্বার্থের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম- এই ঘটনা তারই স্বীকৃতি দেয়। নিরাপত্তা ভূমিকায় থাকা চীনা নাগরিকরা প্রধান অর্থনৈতিক ও জন-কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত করতে গিয়ে বিরোধীদের তৎপরতাকে জটিল করে তোলে। চীনের তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাখাইনের কিয়াউকপিউতে পিপলস লিবারেশন আর্মির ‘প্রক্সি’ নিয়ে ভারত সম্ভবত উদ্বিগ্ন। সিম্পসন বলেছেন, ভারতের বিলম্বিত কালাদান মাল্টি-মডেল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্ৰকল্প একই প্রদেশে হওয়ার কথা। বাংলাদেশ ‘তাদের দোরগোড়ায়’ সৈন্য নিয়ে চিন্তিত। একইভাবে থাইল্যান্ড তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সিম্পসন এ কথাও বলেছেন, তারা মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হয়তো বৈঠকে বসতেও ইতস্তত বোধ করবেন।ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ জেসন টাওয়ার বলেছেন, বেইজিং দেখেছে কীভাবে জান্তা জোরপূর্বক সেনা নিয়োগের মাধ্যমে মিয়ানমারের নিজস্ব বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ‘পরস্পরকে ধ্বংসকারী বানিয়েছে। এ কারণেই উদ্বিগ্ন যে, দুর্বল নিরাপত্তা সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চীনা প্রকল্পগুলোর অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য করবে। তবে চীনা নিরাপত্তা কর্মীরা দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রকল্পগুলো পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিতে গিয়ে ‘ব্যাপক চ্যালেঞ্জের’ মুখোমুখি হবে।

টাওয়ারের মতে, চীন স্পষ্টভাবে দেখছে, জান্তা তার বিনিয়োগ রক্ষা করতে লড়াই করছে। যেমন চীন-মিয়ানমার পাইপলাইন প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনিসহ রাখাইন রাজ্যে গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো পরিকল্পিত বিনিয়োগ। তিনি এও বলেছেন, অনেক প্রকল্প এখন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও জনগণের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিশ্রণে নিয়ন্ত্রিত। সামরিক বাহিনী পাইপলাইনের বড় অংশে এখনও ঢুকতে পারেনি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং চীনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। টাওয়ারের মতে, বেইজিং সেই সঙ্গে বিদেশে তার নিরাপত্তা কোম্পানি সম্প্রসারণের জন্য দেশটিকে পরীক্ষামূলক হিসেবে ব্যবহার করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন