ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসগুলোয় ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে ট্রাম্প দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন, ক্যাম্পাসে কোনো ‘অবৈধ বিক্ষোভের’ অনুমতি দিলে তাদের জন্য বরাদ্দ ফেডারেল তহবিল বন্ধ করে দেওয়া হবে। এপি নিউজ জানিয়েছে – নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইসরাইলের গাজা হামলার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার, বহুবছরের জন্য স্থগিতাদেশ ও ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শিক্ষার্থী সংগঠকদের দাবি, কমপক্ষে ২২ জন শিক্ষার্থী এই সিদ্ধান্তের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে স্টুডেন্ট ওয়ার্কার্স অব কলাম্বিয়া (এসডব্লিউসি) ইউনিয়নের সভাপতি গ্রান্ট মাইনারকেও বহিষ্কার ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাকস্বাধীনতা দমনের বৃহত্তর নীতির অংশ, এসডব্লিউসি তাদের বিবৃতিতে জানায়। “এটি এমন এক সময়ে করা হলো, যখন ফেডারেল সরকার কলাম্বিয়ার অর্থায়ন স্থগিত করেছে এবং আরও ৬০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল বাতিলের হুমকি দিয়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— গত বছরের হ্যামিল্টন হলের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেওয়া, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মুখোশ পরা নিষিদ্ধ করা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশীয় ও আফ্রিকান স্টাডিজ বিভাগ পুনর্গঠন করা এবং ইহুদিবিদ্বেষ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক জোটের (আইএইচআরএ) সংজ্ঞা গ্রহণ করা।
সমালোচকদের মতে, আইএইচআরএ-এর সংজ্ঞা গ্রহণের ফলে ইসরাইলবিরোধী সমালোচনা দমন করা হবে এবং একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংস্থাটির সংজ্ঞার ১১টি উদাহরণের মধ্যে সাতটি ইসরাইলবিরোধিতাকে ইহুদিবিদ্বেষের সঙ্গে এক করে দেখে, যা বাকস্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি সংজ্ঞাটির রচয়িতা কেনেথ স্টার্নও একে সমালোচনা করেছেন ।কলাম্বিয়ার শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে, এই সংজ্ঞার উদাহরণগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করে দেবে এবং তারা ইসরাইলের নীতির সমালোচনা করতে গেলে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষ এক প্যালেস্টাইনী ছাত্র-অ্যাকটিভিস্ট মাহমুদ খলিলকে আটক করেছে, যার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ নেই। ট্রাম্প দাবি করেছেন, এটি ‘অনেকের মধ্যে প্রথম গ্রেপ্তার’। তিনি জানান, অবৈধ বিক্ষোভে জড়িত বিদেশী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কৃত করা হবে। মাহমুদ খলিল গ্রেপ্তার হওয়ার কয়েক দিন আগে ট্রাম্প কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ কোটি মার্কিন ডলারের ফেডারেল তহবিল বাতিল করেছেন। প্যালেস্টাইনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেয়ার অভিযোগে, শুক্রবার লেকা কর্ডিয়া নামে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আরেক প্যালিস্টিনিয়ান শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট।
এর আগে, মঙ্গলবার, কলাম্বিয়ার ইউনিভার্সিটির এক পিএইচডি শিক্ষার্থী, রঞ্জনি শ্রিনিবাসান সিবিপি নিজেই দেশ ত্যাগ করেছেন। হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগে, গত সপ্তাহে ভারতীয় ওই শিক্ষার্থীর ভিসা স্থগিত করা হয়। গত বছরের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেন। তাদের টানা ইসরায়েলবিরোধী কর্মসূচিতে আকৃষ্ট হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পাসেও। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ইহুদিবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, এ নিয়ে রাজনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছে আজও। রিপাবলিকানরা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবেই দেখে। যদিও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইহুদিরাও ছিলেন।


