সিরিয়ায় আবারও পূর্ণমাত্রার গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। মার্কিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ ও সম্ভাব্য ভাঙনের মুখোমুখি হতে পারে।’
রুবিও জানান, সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক সদস্যই এফবিআই-এর নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হননি। তারপরও আসাদ বিরোধী অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিল। রুবিও বলেন, ‘আমরা যদি যোগাযোগ না রাখতাম, তাহলে ব্যর্থতা নিশ্চিত ছিল।’ উল্লেখ্য, সিরিয়ার কার্যত প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন—সিরিয়ার বর্তমান সরকার ভেঙে পড়লে দেশটি পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে পড়বে এবং এমন এক পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি হবে যার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
বিবিসি জানিয়েছে, শুনানিতে রুবিও সিরিয়ার ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।
গত ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে আসাদপন্থী বাহিনীর নানা সহিংসতার কারণে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশটির ৬ লাখের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছিল। শারা এই নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
গত কয়েক মাসে সিরিয়ায় দুটি ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটে গেছে। গত মার্চে আসাদের আলাওয়াইত সম্প্রদায়ের প্রায় ৯০০ জনকে হত্যা করেছে সরকারি বাহিনী। এ সময় ১৭০ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও নিহত হয়েছে।
অপরদিকে মে মাসের শুরুতে রাজধানী দামেস্কের দুটি উপশহর ও দক্ষিণের সুয়েইদা প্রদেশে সংখ্যালঘু দ্রুজ, সুন্নি ইসলামি গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে।


