স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে তাঁর মন্ত্রণালয় থেকেও এ রকম সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কে শোনে কার কথা। ঢালাও মামলার পর এবার গায়েবি মামলা হচ্ছে। অর্থাৎ যিনি মারা যাননি, তাঁকেই ‘শহীদ’ বানিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা। … আল আমিন সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পিরিজপুরের বাসিন্দা। মামলার প্রায় দুই সপ্তাহ পর তিনি জানতে পারেন, তাঁকে ‘মৃত’ দেখিয়ে স্ত্রী মামলা করেছেন। মামলা থেকে আসামির নাম প্রত্যাহার করার কথা বলে নাকি তাঁর স্ত্রী লোকজনের কাছ থেকে টাকাপয়সাও নিচ্ছেন।
… ৪ আগস্ট সুনামগঞ্জ পৌর শহরে গুলিবিদ্ধ হন মো. জহুর আলী। ঘটনার এক মাস পর তাঁর বড় ভাই হাফিজ আহমদ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। এই মামলায় আসামি ধরা ও ছাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গুলিবিদ্ধ জহুর আলী। … মিরপুরের এক হত্যা মামলার বাদী বলেন, তিনি থানায় যাওয়ার পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা আসামিদের নাম বসিয়ে দিয়েছেন। খিলগাঁওয়ে এক হত্যাচেষ্টা মামলায় অন্যদের মধ্যে আসামি করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্নাকে। … একটি মামলায় ৫৩ জন সাবেক সচিবকে আসামি করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অনেকে ৫ বছর আগেই অবসরে গেছেন। তাঁরা কীভাবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারকে প্ররোচনা দিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তর নেই। এরপর সচিব ছাড়িয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টাকেও হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।
… এই মামলা পেছনেও যে কার বা কাদের প্ররোচনা আছে, সেটাও খুঁজে বের করা দরকার।…এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। তাহলে কি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের ঘটনায় ভূয়া মামলা চলতে থাকবে?
প্রথম আলোতে লেখা কলামের চুম্বক অংশ।


