বিশ্বজুড়ে নানা ধরনের গাছগাছালি রয়েছে যাদের নিয়ে নানা রকম লোককথা ও মিথ প্রচলিত। এর মধ্যে অন্যতম একটি গাছ হলো ‘ম্যাড্রাক’ বা ‘মানুষের মতো গাছ’, এটি আফ্রিকার নির্দিষ্ট অঞ্চলে পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়। লোকমুখে প্রচলিত আছে, এই গাছ দেখতে মানুষের মতো এবং যখন এটি কাটা হয় তখন এর ভেতর থেকে শিশুর কান্নার মতো আওয়াজ শোনা যায়। এই ধারণাটি অনেকের কৌতূহল জাগিয়ে তোলে এবং গাছটির বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক দিক নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তাও তৈরি করে।
ম্যাড্রাক গাছের বৈজ্ঞানিক প্রামাণিক তথ্য খুবই সীমিত। আফ্রিকার বনাঞ্চলে এমন কোনো গাছের অস্তিত্বের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট গবেষণার অভাব রয়েছে। তবে গাছের আকৃতি ও গঠন নিয়ে মানুষের কল্পনা ও মিথ প্রচলিত রয়েছে। ভারত এবং দক্ষিণ এশিয়ায় ‘অশ্বত্থ’ বা পিপল গাছ (Ficus religiosa) বহু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে, যেখানে গাছের পাতা বা শাখার শব্দকে নানা আধ্যাত্মিক অর্থে দেখা হয়। কিন্তু ম্যাড্রাকের ক্ষেত্রে কান্নার আওয়াজের গল্পটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা মেলেনি।
গাছ কাটার সময় কান্নার মতো শব্দ শোনার ঘটনা প্রকৃতিতে বিরল নয়। বেশ কিছু গাছের শাখা বা পাতা ঝড়লে বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণ হয়ে শব্দ হয়, যা কানে ভিন্নরকম শোনায়। পল গাছের পাতার লেজের সাথে ফলকের আঘাতেই ঝমঝম শব্দ শোনা যায়। তবে শিশুর কান্নার মতো সুনির্দিষ্ট শব্দের উৎপত্তি গাছ থেকে হওয়া সম্ভব নয়, গাছের অভ্যন্তরে কোনো স্নায়ুতন্ত্র বা প্রাণী নেই যা এমন শব্দ করতে পারে। এই ধরনের শব্দের উৎস হতে পারে বাতাসের প্রবাহ, গাছের কাঠের ফাটল বা আশেপাশের পরিবেশের অন্যান্য শব্দ।
ম্যাড্রাক গাছের কান্নার আওয়াজের গল্পটি মূলত লোককথা ও কল্পনার ফল। আফ্রিকার বিভিন্ন উপজাতি ও সম্প্রদায়ের লোকের মধ্যে গাছের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন বিশ্বাস ও কাহিনী প্রচলিত। অনেক সময় প্রকৃতির অদ্ভুত ঘটনা বা শব্দকে অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করে গল্প তৈরি হয়।চলচ্চিত্র, সাহিত্য ও মিডিয়ায় এই ধরনের গল্প আরও প্রসারিত হয়। হ্যারি পটার সিরিজে ‘ম্যাড্রাক’ গাছকে চিৎকার করতে দেখা যায়, বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।
উদ্ভিদ শারীরতত্ত্ব ও পরিবেশগত গবেষণার মাধ্যমে গাছের গঠন, শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করা হয়। এমন গবেষণা গাছের অদ্ভুত আচরণ বা শব্দের উৎস নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে। আফ্রিকার বনাঞ্চলে ম্যাড্রাকের মতো গাছের প্রকৃত বৈজ্ঞানিক পরিচয় ও তার আচরণ নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা করলে এই মিথের পেছনের সত্য উদঘাটন সম্ভব।


