গত ১৫ বছরে দেশে ৫২টি নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি।প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত ২৬টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ চালুর ৮-১০ বছর পরও নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করতে পারেনি। পাঠদানের জন্য নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও গবেষণার সুযোগ। অনেক কলেজ জেলা হাসপাতালের ভাড়া করা কক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে, যেখানে শ্রেণিকক্ষ ও ব্যবহারিক শিক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘাটতি নিয়ে প্রতি বছর যেসব চিকিৎসক বের হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই অদক্ষ থেকে যাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যখাতের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করা হবে। এর মধ্যে ছয় থেকে সাতটি সরকারি কলেজ রয়েছে, বাকিগুলো বেসরকারি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর থাকবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মাত্র তিনজন শিক্ষক নিয়ে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালু হয়, যেখানে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ চালুর ছয় বছর পরও নিজস্ব ক্যাম্পাসের বন্দোবস্ত হয়নি। নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের একটি তলার অংশে চালানো হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় লেকচার হল নেই।
গত বছর মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল এবং চারটি কলেজের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়েছে, আর উত্তরার আইটি মেডিকেল কলেজ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এবং শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন, যা জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ছয় বছরে আরও ৬০ হাজার চিকিৎসক কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চিকিৎসকের ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং নতুন চিকিৎসকদের মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করার পাশাপাশি আসনসংখ্যাও এক হাজারের বেশি কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, ১০টি মেডিকেল কলেজের জন্য ১৯টি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। ঢাকা মেডিকেলের জন্য দুটি হাসপাতাল ও একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, আগামী বছর থেকে মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। স্বাস্থ্য শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


