রয়টার্স জানিয়েছে – ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অস্ত্র বিক্রি থেকে বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউজে বৈঠকের সময় এবং পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা মানবাধিকার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকি তাদের অনলাইন বিবৃতিতেও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার এসব প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এগুলোকে ‘গভীরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মোদি সরকারের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণের সমালোচনা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে ওয়াশিংটনে তেমন উদ্বেগ দেখা যায়নি। এর মূল কারণ ভারত তার বাণিজ্য বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং চীনের মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘ভারতে মানবাধিকার ইস্যুতে ট্রাম্পের কোনও অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, তার পররাষ্ট্রনীতি মূলত স্বার্থভিত্তিক, যেখানে মানবাধিকার বা মূল্যবোধের জন্য তেমন জায়গা নেই।’
কুগেলম্যান বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্য তাদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করেছে এবং তার গাজা পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ‘জাতিগত নির্মূলের প্রস্তাব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বহুবৈচিত্র্য, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি বাতিল করেছেন, যা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করতে চালু হয়েছিল।


