অনুমোদনের ৫ বছর পর কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত চুক্তি আগামী ২২ এপ্রিল ঢাকায় স্বাক্ষরিত হবে জাপানের দুই খ্যাতনামা নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানেরসাথে। চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই নির্মাণকাজ শুরু হবে। আশা করা হচ্ছে, ২০২৯ সালের মধ্যেই বন্দরটি চালু করা যাবে। এ প্রকল্পে অর্থায়ন ও তত্ত্বাবধান করছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকার প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। মাতারবাড়ি বন্দর প্রকল্পটি ২০২০ সালে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদিত হলেও ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতা ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জের কারণে বিলম্বিত হয়।
বন্দরটি চালু হলে বড় আকারের জাহাজগুলো সরাসরি নোঙর করতে পারবে। এ সুবিধা বর্তমানে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামেও নেই। এতে করে জাহাজ চলাচলের সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ১০ মিটার গভীরতার (ড্রাফট), ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার জাহাজ চলাচল করতে পারে। এর তুলনায় মাতারবাড়ি বন্দরের প্রথম পর্যায়েই ১৬ মিটার গভীরতার জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, গভীর সমুদ্রবন্দরটি চট্টগ্রামের তুলনায় জাহাজ পরিবহনে খরচ ৫৭% এবং সময় ৬০% পর্যন্ত কমিয়ে আনবে।
বর্তমানে এক টিইইউ (টোয়েন্টি-ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট) কনটেইনার পরিবহনে গড়ে ৩ হাজার ডলার খরচ হয় এবং ইউরোপে চালান পৌঁছাতে ৪০ থেকে ৪২ দিন সময় লাগে। কিন্তু গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় কনটেইনার জাহাজগুলো সরাসরি নোঙর করতে পারবে। এতে করে ডেলিভারির সময় ১৬ থেকে ১৭ দিন কমে আসবে এবং খরচ নেমে আসবে ১ হাজার ৩০০ ডলারের নিচে। বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, ‘গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে এটি কেবল বড় আকারের জাহাজই ধারণ করতে পারবে না, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রান্সশিপমেন্ট হাব হিসেবেও কাজ করবে।প্রতিবেশী দেশগুলো তাদের পণ্য পরিবহনের জন্য এ বন্দর ব্যবহার করতে পারবে। তাছাড়া, ইউরোপ বা আমেরিকাগামী বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজগুলোর আর সিঙ্গাপুর, কলম্বো বা মালয়েশিয়ার মাধ্যমে ফিডার ভেসেল ট্রানজিটের প্রয়োজন পড়বে না।’


