মহাসাগরগুলোর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়বে পৃথিবী। যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী মাত্রার ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বন্যা, সামুদ্রিক জীবন ও প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি করবে এমন মাত্রার তাপপ্রবাহ
১৯৮০ এর দশকের শেষের দিক থেকে মহাসাগরের উষ্ণতার হার চারগুণেরও বেশি হয়েছে বলে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি নতুন গবেষণায়। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স’ এ। এতে গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রথম দিকে মহাসাগরের তাপমাত্রা কেন ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম হয়েছিল। ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে মহাসাগরের তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়ছিল। কিন্তু এখন প্রতি দশকে ০.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে, যা চার গুণ হয়েছে।
গবেষকরা বলছেন, মহাসাগরের এই উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা। কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী বেশি শক্তি শোষণ করছে। এতে বিভিন্ন সাগর ও মহাসাগর উষ্ণ হচ্ছে।২০১০ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়েছে পৃথিবীর এই শক্তির ভারসাম্যহীনতা, যা দ্রুত পৃথিবীর মহাসাগরকে উষ্ণতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শুরুর দিকে গোটা বিশ্বে মহাসাগরের তাপমাত্রা টানা ৪৫০ দিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। রেকর্ড উষ্ণতার জন্য ৪৪ শতাংশ দায়ী হচ্ছে সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি।
আগামী ২০ বছরে মহাসাগরের উষ্ণতা গত ৪০ বছরের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে গবেষণায় সতর্ক করেছেন গবেষকরা। মহাসাগরগুলো পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করার ফলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়বে পৃথিবী। যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী মাত্রার ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বন্যা, সামুদ্রিক জীবন ও প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি করবে এমন মাত্রার তাপপ্রবাহ।বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাসাগরের উষ্ণতা কমিয়ে আনার সেরা উপায় হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং এটিকে সৌর ও বায়ু শক্তির মতো পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন শক্তির উৎসে রূপান্তর করা। এজন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


