তাদের মহাকাশে আট দিন থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে আটকে ছিল নয় মাস। সবচেয়ে দীর্ঘ একক মহাকাশ মিশন সম্পন্ন করায় নভোচারী সুনীতা উইলিয়াম এবং ব্যারি উইলমোর এখন নাসার শীর্ষ ক্রু সদস্যদের মধ্যে অন্যতম।
মহাকাশে বসবাস মানুষের শরীরে কী প্রভাব ফেলে?
কক্ষপথে থাকার সময় এই দুই নভোচারীর পেশির ভর ৪০% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও তারা তাদের শরীরের ১২% ভর ও ৬০% শরীরের তরল হারিয়েছেন। বিকিরণের কারণে তাদের জিনের ৭% স্থায়ীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের হাড়ের ঘনত্বও কমে গিয়েছে এবং মাধ্যাকর্ষণের অভাবের কারণে তারা ৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে গিয়েছেন।
কিন্তু পৃথিবীতে ফিরে আসার পর কী ঘটে?
১ম দিন : মাধ্যাকর্ষণ তাদের মেরুদণ্ডকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে, ফলে তারা আবার আগের উচ্চতায় ফিরে যান।
১ সপ্তাহে এক সপ্তাহ পর তাদের গতিশীলতা সংক্রান্ত অসুস্থতা কমে আসে এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।
১৪ দিনে এরপর তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তারা হারানো দেহতরলের ২০% পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হন।
৩০ দিনে এক মাস পর তাদের পেশিগুলো আবার উড্ডয়নের আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
৯০ দিনে ধীরে ধীরে তাদের দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয়, ত্বক পুনরুদ্ধার হয় এবং দেহের ভর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
১৮০ দিনে কিন্তু পৃথিবীতে ফেরার ছয় মাস পরও তাদের হাড় পুরোপুরি সুস্থ হয় না। কিছু প্রভাব হয়তো কখনোই সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসবে না।
বিকিরণের প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী। এটি ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং বিভিন্ন অবক্ষয়জনিত রোগের সম্ভাবনা সৃষ্টি করে। এখন কল্পনা করুন, মঙ্গল গ্রহে ৩০ মাসের একটি যাত্রা। যেখানে বিকিরণের মাত্রা দ্বিগুণ এবং দ্রুত ফিরে আসার কোনো উপায় নেই। এটাই হয়তো অন্যতম প্রধান কারণ যে, আমরা এখনও সেখানে পৌঁছাতে পারিনি।


