নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ইসরায়েলকে বাইরে রেখেই মধ্যপ্রাচ্য সত্যিকারের পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে। বছর খানেক আগে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সৌদি আরব। মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্নিমাণ এবং ইরান ও তার মিত্রদের আরও বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার এ প্রক্রিয়ায় দেশ দুটি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তির খুব কাছাকাছি চলেও গিয়েছিল। দীর্ঘ এক বছর ধরে গাজায় নির্বিচার হামলার পর প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরব ইসরায়েলের সমালোচকে পরিণত হয়েছে। রিয়াদ জানিয়ে দিয়েছে, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ছাড়া ইসরায়েলের সাথে কোনো কূটনৈতিক চুক্তি হবে না। পাশাপাশি তারা চিরশত্রু ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উষ্ণ করছে।
চলতি মাসে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে ইরান। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি সৌদি আরব সফর করেন এবং তারপর ইরাক, ওমান, জর্ডান, মিসর ও তুরস্ক সফর করেন। বিশেষত মিসর সফর ছিল গত ১২ বছরে প্রথমবারের মতো কোনও ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশটিতে ভ্রমণ। এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের নজিরবিহীন এক সম্প্রীতি। যদিও এই বন্ধন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে এবং নড়বড়ে রয়ে গেছে। তবে এটি দেশগুলোর শতাব্দী পুরোনো বৈরিতাকে দূরে ঠেলে দেবে বলেই মনে হচ্ছে।
নেতানিয়াহু যখন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে চলেছেন, সৌদি কর্মকর্তারা তখন কূটনৈতিক চুক্তির শর্ত হিসেবে দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের প্রসঙ্গ তুলেছেন। আরব আমিরাতসহ আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনকারী আরব দেশগুলোও গাজার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে তাদের অবস্থান প্রকাশ করছে। ফিলিস্তিনিদের সীমাহীন দুর্ভোগ আরব নাগরিকদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণা বাড়াচ্ছে। আর এটি দখলদার দেশটির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা শাসকদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। জনমত নিয়ে উদ্বেগে থাকায় দেশগুলোর শাসকগোষ্ঠী বাধ্য হয়েই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কথা বলছেন।


