পানির অভাবে চলতি বছর বরেন্দ্র অঞ্চলের তিন জেলা রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর আট উপজেলায় বোরো চাষ সীমিত করে দিয়েছে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। প্রতিষ্ঠানটি সেচের পানি সরবরাহ করে। নাচোল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানায়, উপজেলায় গভীর নলকূপ ছিল ২৫০টি। এখন ৫৫টিই বন্ধ। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো দেশজুড়ে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে। দুই বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড এক গবেষণায় উল্লেখ করেছিল, দেশের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নামছে ঢাকা নগর, গাজীপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলে। পানি কমলেও যে হারে পানি উঠছে, তার পুনর্ভরণ বা রিচার্জ হচ্ছে না।
রাজধানী বা দেশের অন্যত্র পুনর্ভরণে পাইলট বা সাময়িকভাবে প্রকল্প নেওয়া হলেও সেগুলো তেমন কার্যকর নয়। সবচেয়ে বেশি ভূগর্ভস্থ পানি সংগ্রহ করা ঢাকা ওয়াসার পুনর্ভরণ প্রকল্পের কোনো গতি নেই। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পুনর্ভরণ কমতে থাকলে উত্তরের জনপদের দশা দেশের অন্যত্রও হতে পারে। ভূগর্ভস্থ পানি নিয়ে এই শঙ্কার মধ্যে আজ ২২ মার্চ পালিত হচ্ছে বিশ্ব পানি দিবস। ২০২২ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৪৬৫টি অগভীর ভূগর্ভস্থ পানির পর্যবেক্ষণ কূপের ৪০ বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার ও অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে এক থেকে তিন মিটার পর্যন্ত পানি স্তর নেমে যাচ্ছে।
এরপর ‘দ্য গ্যাঞ্জেস ওয়াটার মেশিন কোয়ান্টিফায়ের ফ্রম পিজামেট্রে ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণায় ১৯৭০ থেকে ২০২০ সাল-এ সময়ের পানির স্তর ও পুনর্ভরণ চিত্র উঠে আসে। এতে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি কূপের পানির স্তর নামছে। পুনর্ভরণের হার কমে যাচ্ছে। যেমন – রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ১৯৮০-এর দশকে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর নামলেও বর্ষায় পুনর্ভরণ হতো ১৬ থেকে ১৮ মিটার। কিন্তু ২০১০ সালের পর পুনর্ভরণ ১৬ মিটারের বেশি হচ্ছে না। গবেষকদের একজন আনোয়ার জাহিদ প্রথম আলোকে বলেন, দেশের প্রায় কোথাও পুনর্ভরণের সুষম চিত্র দেখা যাচ্ছে না। ভূগর্ভ থেকে পানি কেবল উঠছে, আর মাটির তল ফাঁকা হচ্ছে। পানির কৃত্রিম পুনর্ভরণ এখন দ্রুত করতে হবে।
ভূ-উপরিস্থ পানি দিয়ে ভূগর্ভ পুনর্ভরণে গবেষণা করেছেন প্রকৌশলী সৈয়দ আজিজুল হক। তিনি বলছিলেন, বৃষ্টির পানি পুনর্ভরণের সবচেয়ে ব্যয়বহুল পদ্ধতি হচ্ছে ইনজেকশন। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের পিটের নিচে কংক্রিটের স্ল্যাব দেওয়া যাবে না, এক ফুট খোয়া দিতে হবে। কম খরচের পদ্ধতি হলো পরিত্যক্ত টিউবওয়েলকে পানি পুনর্ভরণের কাজে লাগানো। এ ছাড়া বাসাবাড়ির চতুর্দিকের দেয়ালের পাশে পরিখা করে সেগুলোতে বালু ভরে রাখা।


