“ভাষা আন্দোলনের উপর আমি বিস্তারিত কাজ শুরু করি ঊনসত্তর সালে।…বিভিন্ন পত্রিকা, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎসহ নানাভাবে আমাকে তথ্য জোগাড় করতে হয়েছে।…আমি তথ্যের বাইরে কোন কিছুই লিখিনি।… শেখ হাসিনা যেমন প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারি মাস এলেই বলতো, আমি নাকি ভাষা আন্দোলনে তার বাবার ভূমিকা খর্ব করেছি। কিন্তু তার বাবার কী ভূমিকা ছিল তা সে নিজেই জানে না। দুই বছর আগে সাক্ষাৎকারে সে বলেছে, আমার বাবা ভাষা আন্দোলনের জন্য বারবার জেলে গেছেন। যার কোন ভিত্তি নেই। তার বাবা ভাষা আন্দোলনের সময় বারবার জেলে যাননি। এটি ঠিক যে তিনি বিভিন্ন আন্দোলনে যুক্ত থাকার জন্য জেলে গেছেন। কিন্তু তা ভাষা আন্দোলনের জন্য নয়। ভাষা আন্দোলনের জন্য ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ অন্য অনেকের মতো পাঁচ দিনের জন্য তিনিও জেলে গিয়েছিলেন। ১৬ মার্চ মুক্তি পেয়েছিলেন।
এছাড়া ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে শেখ মুজিবের কোন সম্পৃক্ততা ছিলোনা। বায়ান্ন সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ফরিদপুর জেলে ছিলেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে তাকে ফরিদপুরে ট্রান্সফার করা হয়েছিল। ফলে ভাষা আন্দোলনে তার নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কোন প্রশ্নই ছিল না। তাছাড়া তখনকার দিনে আওয়ামী লীগেরও তেমন গুরুত্ব ছিল না।তবে সাংগঠনিকভাবে কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবলীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বায়ান্ন সালে অলি আহাদের ভুমিকাই সবচেয়ে বেশি ছিল। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে মূলত গণমানুষ সম্পৃক্ত হয়েছিল। তাই আমার বইও আমি পূর্ব বাংলার সংগ্রামী জনগণের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেছিলাম।”


