ভারত-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘এটি লজ্জার। আমি আশা করি এটি খুব দ্রুত শেষ হবে। আমার মনে হয় অতীতের কিছু ঘটনার উপর ভিত্তি করে মানুষ জানত যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে। তারা (ভারত ও পাকিস্তান) দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি (এই পরিস্থিতি) শেষ হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটারে) লিখেছেন, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরিস্থিতিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করি এই পরিস্থিতির দ্রুত শেষ হবে এবং ভারত ও পাকিস্তানের নেতৃত্ব আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাবে।’
ওয়াশিংটনে ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, ‘চীন মনে করছে, পাকিস্তানে ভারতের সামরিক অভিযান দুঃখজনক। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আমরা বেশ উদ্বিগ্ন। দুইপক্ষকে শান্তি ও স্থিতিশীলতার বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার, শান্ত থাকার, সংযম প্রদর্শনের এবং পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে, এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
চীনের মুখপাত্র আরো বলেন, ‘চীন সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা করে। ভারত ও পাকিস্তান এমন দুই প্রতিবেশী, যাদের আলাদা করা যায় না এবং তারা চীনের প্রতিবেশীও।’
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বিগ্ন প্রকাশ করেছে রাশিয়া। পাশাপাশি দেশ দুইটিকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় সব ধরনের সন্ত্রাসবাদেরও নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় সামরিক অভিযান নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন জাতিসংঘ মহাসচিব। দুই দেশকেই সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত বিশ্ব বহন করতে পারে না।’
ভারতে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে ইসরায়েল। সন্ত্রাসীদের জানা উচিত, নিরপরা্রৃ মানুষের বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ করে পার পেৃয়ে তাদের লুকানোৃর কোনও জায়গা নেই।’
জাপানের মন্ত্রিপরিষদের প্রধান সচিব ইয়োশিমাসা হায়াশি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জ়াপান তীব্র নিন্দা জানায়। একইসঙ্গে আমাদের উদ্বেগ, পরিস্থিতি আরও প্রতিশোধমূলক অবস্থানের দিকে নিয়ে যেতে পারে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে পরিণত হতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আমরা ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই সংযম প্রদর্শন এবং সংলাপের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।’
দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন সুলতান বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ভারত ও পাকিস্তানকে সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা কমাতে এবং আরও উত্তেজনা রোধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কূটনীতি এবং সংলাপই শান্তিপূর্ণভাবে সংকট সমাধানের এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য জাতিগুলোর অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা অর্জনের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’


