“পশ্চিমারা সামরিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে ভারতকে। আর চীন দিচ্ছে পাকিস্তানকে। এই সামরিক সাহায্য দিন দিন বাড়ছে। এসব লক্ষণ দেখে বোঝা যাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে কে কার পাশে থাকবে, সেই সমীকরণ বদলে যাচ্ছে।
… ভারত ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ দেশ ছিল। এখন তারা স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বলয়ে ঢুকে গেছে। সেখান থেকে বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র খরিদ করছে। আরও অস্ত্র কিনছে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে। সেই সঙ্গে কমিয়ে দিয়েছে রাশিয়া থেকে সস্তা অস্ত্র কেনা। এই রাশিয়া শীতল যুদ্ধের সময় ভারতের মিত্র ছিল।
ওদিকে আফগানিস্তান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রাসঙ্গিকতা আর আগের মতো নেই। পাকিস্তান এখন আর যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কিনছে না। পাকিস্তান এখন ঝুঁকেছে চীনের দিকে। সেখান থেকে কিনছে তাদের অধিকাংশ অস্ত্র।
এসব সম্পর্ক বদলের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশের সবচেয়ে পুরোনো দুশমনি এক নতুন মোড় নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে চীনকে মোকাবিলা করতে ভারতকে আশকারা দিচ্ছে। অন্যদিকে চীন নিজের বিনিয়োগ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়িয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের জন্য।
… সব মিলিয়ে এ অঞ্চলে শত্রু আর মিত্রের হিসাব একেবারে পাল্টে গেছে। ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে এখন যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য একই ভূমিকা নিচ্ছে চীন। ভারত যখন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র এতটা জোরালোভাবে ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা যায়নি।
কাশ্মীরে ২২ এপ্রিলের জঙ্গি হামলার পরপরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে। তখন ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নেতারা ভারতের প্রতি শক্তিশালী সমর্থন জানান। অনেক ভারতীয় কর্মকর্তার কাছে তা যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ‘সবুজসংকেত’ বলেই মনে হয়েছে। যদিও প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে সংযম দেখাতে বলেছিল।
… এই নতুন জোটকাঠামোর প্রভাব ভবিষ্যতের সামরিক সংঘাতে পড়বে বলেই ধারণা। যদি আমরা ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ভবিষ্যতের কোনো যুদ্ধের কথা ভাবি, তাহলে দেখা যাবে যে ভারত লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় অস্ত্র নিয়ে, আর পাকিস্তান চীনা অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে।
… যুক্তরাষ্ট্র এখন আশঙ্কা করছে, ভারত ও পাকিস্তানে ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদ, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং আকাশসীমায় বিপজ্জনক ঘন ঘন উপস্থিতি—সব মিলিয়ে যেকোনো সামান্য ভুল বা সীমা লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়ে যেতে পারে। বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। কারণ, এতে জড়িত দুটি দেশই পারমাণবিক শক্তিধর।”


