দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের পর ভারত ও চীনের সম্পর্ক ক্রমাগত উন্নতির দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সম্প্রতি চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এই আশা প্রকাশ করেন। এটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট বদলে যাচ্ছে এবং এশিয়ার এই দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের সম্পর্ক নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠকের পর মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ভারত ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও সংবেদনশীল বিষয়ে সম্মান প্রদর্শনের কথা উল্লেখ করেন। অন্যদিকে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে যে, দুই দেশ এখন ‘স্থিতিশীল উন্নয়নের পথে’ প্রবেশ করেছে এবং তাদের একে অপরের প্রতি ‘বিশ্বাস ও সমর্থন’ থাকা উচিত।
ওয়াং গত সোমবার ভারতে পৌঁছান এবং তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গেও বৈঠক করেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দোভালের সঙ্গে বৈঠকে ‘উত্তেজনা কমানো, সীমারেখা নির্ধারণ এবং সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
২০২০ সালের আন্তসীমান্ত সংঘাতের পর দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়। ওই সংঘর্ষে ২০ ভারতীয় সেনা এবং চার চীনা সেনা নিহত হয়েছিলেন, যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাত ছিল। এই ঘটনার পর উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক যোগাযোগ স্থগিত হয়ে যায়। সম্প্রতি ওয়াং বলেন যে, ‘গত কয়েক বছরে আমরা যে সমস্যাগুলো দেখেছি, তা আমাদের দুই দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না।’ তিনি সীমান্তে ফিরে আসা স্থিতিশীলতা দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মোদি সীমান্তে শান্তি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সীমান্ত প্রশ্নে ‘ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ নিশ্চিত করতে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
ভারত ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের এই উন্নতি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করার পর এই তিক্ততা দেখা দেয়।
২০২০ সালের লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষের পর দুই পক্ষই বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল বাণিজ্য, কূটনীতি এবং উড়োজাহাজ চলাচলের ওপর। তবে গত বছর দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে টহল এবং কিছু এলাকা থেকে অতিরিক্ত সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে চুক্তি হয়েছে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের সফর বেড়েছে এবং কিছু বাণিজ্যিক ও যাতায়াত সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।গত মাসে বেইজিং ভারতীয় তীর্থযাত্রীদের তিব্বতে ধর্মীয় স্থান পরিদর্শনের অনুমতি দিয়েছে এবং দুই দেশ সরাসরি ফ্লাইট চালুর চেষ্টা করছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উভয় দেশ তাদের ৩ হাজার ৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে তিনটি পয়েন্ট দিয়ে বাণিজ্য পুনরায় চালু করার বিষয়ে আলোচনা করছে। পর্যবেক্ষক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ফেলো মনোজ যোশী মনে করেন, দুই দেশের সীমান্ত সমস্যার সমাধান করতে হলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন।


