ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ভারতের মধ্য দিয়ে বিমানবন্দর ও বন্দর ব্যবহার করে তৃতীয় দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এতে নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ এতে জরুরি প্রয়োজনে মধ্যপ্রাচ্যসহ পশ্চিমের ক্রেতাদের কাছে দ্রুত রপ্তানি পণ্য পাঠাতে ভারতের বিমান ও স্থলবন্দরের বিকল্প ব্যবহারের পথ বন্ধ হল। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি ভারতীয় বিমানবন্দর ব্যবহার করা হতো। ২০২০ সাল থেকে বাংলাদেশ এই সুবিধা পাচ্ছে। ভারতের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সমিতি (এইপিসি) দীর্ঘদিন ধরেই এই ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।
এইপিসির চেয়ারম্যান সুধীর সেখড়ির মতে, টেক্সটাইল রপ্তানিতে বাংলাদেশ ও ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী। বাংলাদেশের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করায় এখন ভারতীয় বিমানবন্দরগুলোতে ভারতীয় রপ্তানি পণ্যের জন্য বেশি জায়গা তৈরি হবে। রপ্তানিকারকরা বলেছেন, এতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে তেমন প্রভাব না পড়লেও ক্রেতা দেশের কাছে পণ্য সরবরাহের বিকল্প এক পথ কমে যাবে। রপ্তানি সক্ষমতা কিছুটা হলেও সংকুচিত হবে। দুটি কারণে মূলত ভারতের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা তৈরি পোশাক বা অন্য পণ্য তৃতীয় দেশে পাঠিয়ে থাকেন। এর মধ্যে প্রথমটি হচেছ, কলকাতা থেকে পাঠানোর খরচ কম এবং সেখান থেকে পশ্চিমা দেশের প্রায় সবগুলো রুটে সরাসরি পণ্য পরিবহন সম্ভব।
দ্বিতীয়টি হচেছ, হরতাল, বন্যা বা দুর্যোগের মত সময়ে দ্রুত ও সময়মত ক্রেতা দেশের কাছে পণ্য পৌঁছাতে পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা ভারতের বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরকে ব্যবহার করেন। ভারত এ সুবিধা বাতিল করলেও পোশাক খাতের খুব একটা সমস্যা হবে না মনে করছেন পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা। তারা বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কার কলম্বো, মালদ্বীপ, পাকিস্তান বা দুবাইয়ের বিমানবন্দর ব্যবহারের কথা বলেন। তবে এতে খরচ খুব একটা না বাড়লেও বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের পথগুলো সংকুচিত হবে। ভারত থেকে পাঠালে যে সময় বাঁচত, এখন তা হবে না। সবশেষ ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় ঢাকার বিমানবন্দরে কার্গো চাপ বেড়ে গেলে কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা অধিক পরিমাণের পণ্য ক্রেতার কাছে পাঠিয়েছিলেন।
পণ্য তৈরিতে কোনো কারণে দেরি হলে ক্রেতারা উড়োজাহাজে পাঠানোর অনুরোধ করেন। তখন ক্রেতার স্বার্থে উদ্যোক্তাদের সেই অনুরোধ রাখতে হয়। এ খাতের আরেক উদ্যোক্তা বলেন, ঢাকার চেয়ে কম খরচে কার্গো ভাড়া নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় ভারতে। কলকাতা বিমানবন্দর দিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে প্রতিকেজি পণ্য পাঠানোর খরচ দুই থেকে আড়াই ডলার। সেখানে বাংলাদেশে তা ৫-৬ ডলার।


