“ভারত একই দিনে দুটি বড় ঘটনা ঘটিয়েছে। একদিকে দেশটি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একটি ‘ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি করেছে, অন্যদিকে পাকিস্তানের ওপর সামরিক অভিযান চালিয়েছে। তাই এ কথা বলাই যায়, ভারতকে এই সপ্তাহে ভবিষ্যৎ আর অতীত একসঙ্গে ধাক্কা দিয়েছে।
ব্রিটেনের সঙ্গে এই চুক্তি তিন বছর ধরে আলোচনার পর হয়েছে। এটি এমন কয়েকটি চুক্তির একটি, যেগুলো ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও করছে। এই চুক্তিগুলো ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
কিন্তু সেই উন্নয়ন আর উত্থানের মধ্যেই ভারত আবার ফিরে গেছে পুরোনো ঝামেলায়। দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারত সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযান দেখিয়ে দেয়, ভারত এখনো নিজের পারিপার্শ্বিক অস্থিরতার মধ্যে আটকে আছে এবং ইতিহাসের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি।
… যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে বাইরে থেকে খুব বেশি চাপ নেই, আর দুই দেশই নিজেদের জনগণের মন জয়ের জন্য এবং অতিরিক্ত দেশপ্রেম দেখানোর জন্য জোরালো সামরিক অবস্থান নিচ্ছে।
… এই উত্তেজনা শিগগিরই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এটা অনেকটা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, তাইওয়ান প্রণালির দুই পারে উত্তেজনা কিংবা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মতো—যেগুলোর শিকড় অনেক পুরোনো ইতিহাসে ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে গেঁথে আছে।
… ভারত এখন চায়, সে যেন পৃথিবীর বড় শক্তি হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। দেশ হিসেবে তারা অনেক দূর এগোচ্ছে—অর্থনীতি বড় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বাড়ছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই যুদ্ধসদৃশ সম্পর্ক, বিশেষ করে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ, সেই উন্নয়নের গতিকে আটকে দিচ্ছে।
যতক্ষণ না এই সমস্যাগুলো শান্তভাবে মেটে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতের বড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন মাঝেমধ্যে ধাক্কা খেতেই থাকবে। কারণ, বাইরের দুনিয়ায় বড় কিছু করার আগে নিজের পাশের সমস্যাগুলো ঠিক না করলে সেই স্বপ্ন ধরা দেওয়া কঠিন।”


