কানাডিয়ান পুলিশ সোমবার রাতে ভারতীয় কূটনীতিক এবং কনস্যুলার কর্মীদের দেশে ‘গোপন’ এবং ‘অপরাধী’ কার্যকলাপের জন্য অভিযুক্ত করেছে। কমিশনার মাইক ডুহেম সাংবাদিকদের বলেছেন: ‘তদন্তে জানা গেছে, কানাডায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং কনস্যুলার কর্মকর্তারা গোপন কার্যকলাপের জন্য তাদের সরকারী অবস্থান ব্যবহার করেছেন’। উত্তেজিত ভূ-রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টিতে উভয় দেশ থেকে সিনিয়র কূটনীতিকদের বহিষ্কার করার কয়েক ঘন্টা পরে এই অভিযোগ আসল। সোমবার রাতে ট্রাডো বলেছেন- ‘কানাডার মাটিতে কানাডিয়ান নাগরিকদের হুমকি দেওয়া এবং হত্যা করায় বিদেশী সরকারের জড়িত থাকার বিষয়টি আমরা কখনই বরদাস্ত করব না। কানাডিয়ানদের আক্রমণ করার জন্য তাদের কূটনীতিক এবং সংগঠিত অপরাধকে ব্যবহার করে ভারত বিশাল ভুল করেছে’। এর মধ্যে গোপন তথ্য সংগ্রহ, জবরদস্তিমূলক আচরণ, দক্ষিণ এশীয় কানাডিয়ানদের টার্গেট করা এবং হত্যাসহ এক ডজনেরও বেশি হুমকি ও সহিংস কর্মকাণ্ড আছে – তিনি বলেন। কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেছেন, পুলিশ ‘প্রচুর স্পষ্ট এবং দৃঢ় প্রমাণ পেয়েছে যা ছয় জনকে নিজ্জার মামলায় যুক্ত ব্যক্তি হিসাবে চিহ্নিত করে’। তিনি বলেন, কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সুবিধা ত্যাগ করে তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হলেও ভারত তা করতে অস্বীকার করেছে। সোমবারের আগে একটি বিবৃতিতে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছে যে শীর্ষ কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কানাডিয়ান সরকারের ক্ষমতার উপর তাদের কোনো আস্থা নেই, তাই ভারত ‘হাই কমিশনার এবং অন্যান্য ঝুঁকিতে থাকা কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করছে’। এপি, কানাডিয়ান কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলেছে, ভার্মা এবং ছয়জন শীর্ষ কূটনীতিকের নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের কানাডাই প্রথমে বহিষ্কার করেছিল। গত বছরের জুনে সারেতে গুরুদ্বারের বাইরে কানাডিয়ান শিখ নিজ্জার গুলিতে হত্যা করা হয়। নিজ্জার ছিলেন শিখদের স্বাধীন আবাসভূমির পক্ষে খালিস্তান আন্দোলনের একজন সোচ্চার কণ্ঠ, যা ভারতে নিষিদ্ধ। নিজ্জার হত্যার পর, জাস্টিন ট্রাডো, এক বিরল প্রকাশ্য ঘোষণায় বলেছিলেন ‘বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ’ ছিল যে নিজ্জার হত্যার সাথে ভারত সরকার জড়িত। ভারত ‘অযৌক্তিক’ বলে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ‘তদন্তের অজুহাতে, রাজনৈতিক লাভের জন্য ভারতকে কলঙ্কিত করার একটি কৌশল এটা,’ ভারতীয় মন্ত্রী বলেছে। ভারত নিজস্ব তদন্তে এই উপসংহারে পৌঁছেছে যে পান্নুনকে হত্যার চেষ্টা ছিল ‘বিগড়ে যাওয়া এজেন্টদের’ কাজ। গত নভেম্বরে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী গুরপতবন্ত সিং পানুনকে হত্যা করার ভারতীয় সরকারী কর্মকর্তার প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়ার মার্কিন সংস্থাগুলির দাবি অভিযোগগুলি আরও উসকে দেয়। এই বছর গার্ডিয়ানের সাথে কথা বলা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, ভারত বিদেশী মাটিতে বসবাসকারী সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসাবে পাকিস্তানে কয়েক ডজন ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে।


