The Little Albert Experiment হচ্ছে প্রতিক্রিয়া ও ভয় শেখার মনোবিজ্ঞান!’ গবেষণাটি পরিচালনা করেন বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী জন বি. ওয়াটসন এবং তাঁর সহকারী রোজালি রেনার। ওয়াটসন ছিলেন বিহেভিয়রিজম তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা, যিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের আচরণ মূলত পরিবেশ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ভয় শেখানো আসলেই সম্ভব কি না তা নির্ধারণ করা। ওয়াটসনের ধারণা ছিল যে আবেগ ও প্রতিক্রিয়া শেখানো যেতে পারে এবং এগুলো শারীরিক বা পরিবেশগত উদ্দীপনারই ফসল।
পরীক্ষাটি করা হয় কয়েকটি ধাপে। প্রথম পরীক্ষা ছিলো শিশুর সাথে নির্দোষ বস্তু ও প্রাণীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া। নয় মাস বয়সী শিশু যাকে “লিটল আলবার্ট নামে ডাকা হতো, তার সামনে একে একে বিভিন্ন বস্তু ও প্রাণী রাখা হয়। যেমন, সাদা ইঁদুর, খরগোশ, বানর, সাদা পশমি কাপড়, আগুন ও মুখোশ। শুরুতে শিশুটি এসবের প্রতি কোনো ভয় প্রকাশ করেনি, বরং কৌতূহল দেখিয়েছে। এবার ভয় সৃষ্টির প্রক্রিয়া! প্রথমে আলবার্ট যখন সাদা ইঁদুরের সঙ্গে খেলা করছিল, তখন বিজ্ঞানীরা একটি লোহার রডে হাতুড়ি দিয়ে জোরে জোরে শব্দ করলেন। শিশুটি চমকে উঠল ও কান্না শুরু করল। এই পদ্ধতিটি বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, প্রতিবারই ইঁদুরের সঙ্গে সেই জোরালো শব্দ সৃষ্টি করা হয়।
ধীরে ধীরে শিশুটি শুধুমাত্র ইঁদুর দেখলেই ভয় পেতে শুরু করল, এমনকি শব্দ ছাড়াই! এর প্রভাবে দেখা যায়, শিশুটি পরবর্তীতে শুধু সাদা ইঁদুর নয়, অন্যান্য সাদা বা পশমি জিনিস দেখলেও ভয় পায়! সাদা খরগোশ, সাদা কুকুর, পশমি কোট, এমনকি সান্তা ক্লজের দাড়ি দেখেও ভয় ও কান্নার প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষণার ফলাফল ছিলো ভয় যে শেখানো সম্ভব এবং এটি পরিবেশ দ্বারাই তৈরি হতে পারে, এর প্রমাণ। গবেষণাটি মনোবিজ্ঞানে বিহেভিয়রিজম তত্ত্বকে জনপ্রিয় করে তোলে ও আধুনিক ফোবিয়া নিরাময় থেরাপি (Exposure Therapy) ও আচরণগত থেরাপির ভিত্তি তৈরি করে।
এই পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কও অনেক। এতে করে যে আলবার্ট শিশুটির মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরীক্ষার পর তার ভয় দূর করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজকের মানদণ্ডে এটি নৈতিকভাবে ভুল বিবেচিত হতো। তাছাড়া তার পর থেকে লিটল আলবার্টের প্রকৃত পরিচয় ও পরবর্তী জীবন নিয়ে আর কিছুই জানা যায়নি। The Little Albert Experiment প্রমাণ করেছে আমাদের আবেগ, ভয় ও প্রতিক্রিয়া শেখানো সম্ভব। এই গবেষণা শুধু মনোবিজ্ঞান নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিজ্ঞাপনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও লিটল আলবার্টের পরীক্ষা নৈতিকতার কারণে সমালোচিত, তবু এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে যে, আমরা জন্মগতভাবে নয়, বরং শেখার মাধ্যমেই জীবনের সব রকম আচরণ গঠন করি।


