ফিনল্যান্ড
টানা ষষ্ঠবারের মতো জাতিসংঘের সুখী দেশের তালিকায় প্রথম হয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নত সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ডে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সবচেয়ে বেশি বন রয়েছে। ফিনল্যান্ডের মানুষেরা প্রকৃতি খুব ভালোবাসেন। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তারা নিয়মিত হাঁটতে যান, সাঁতার কাটেন, সাইকেল চালান। এভাবে নিয়মিত ঘুরতে যাওয়া, প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া তাদের সুখী জীবনযাপনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন দেশটির অনেক বাসিন্দা।
ডেনমার্ক
ডেনমার্ক টানা ষষ্ঠবার সুখী দেশের তালিকায় দুই নম্বরে আছে। নর্ডিক প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের মতো ডেনমার্কেও মানুষ উচ্চমানের জীবনযাপন করেন। দেশটির মানুষদের কর্মজীবন ভারসাম্যপূর্ণ, পরিবেশ উন্নত এবং তারা উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা উপভোগ করেন।ডেনমার্কে ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান বিশ্বে সবচেয়ে কম।
আইসল্যান্ড
নর্ডিক দেশ আইসল্যান্ড তালিকায় তিন নম্বরে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দেওয়া তথ্যানুযায়ী লিঙ্গ সমতা বিবেচনায় বিশ্বের সেরা দেশ আইসল্যান্ড। এ ছাড়া সবচেয়ে শান্তির দেশ হিসেবে টানা ১০ বছর শীর্ষে অবস্থান করছে আইসল্যান্ড। মনোমুগ্ধকর ভূপ্রকৃতির অধিকারী দেশটির নাগরিকদের খুব বেশি কর দিতে হয় না। সেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। শিক্ষাও সম্পূর্ণ অবৈতনিক। আইসল্যান্ডের তিন লাখ ৯০ হাজার বাসিন্দা বই পড়তে ভালোবাসেন। আর ভালোবাসেন প্রকৃতি।
সুইডেন
চার নম্বরে সম্পদশালী এই দেশটির সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সুইডেনে একজন কর্মী বেতনসহ সবচেয়ে বেশি ৪১ দিন ছুটি উপভোগ করতে পারেন। এ ছাড়া সুইডেনে সন্তান জন্মের পর তাকে লালন-পালনের জন্য বাবা-মা সর্বোচ্চ ৪৮০ দিন সবেতনে ছুটি নিতে পারেন। এই সময়ে তাদের বেতনের প্রায় ৮০ শতাংশ দেওয়া হয়। তবে দেশটিতে কর অনেক বেশি। সেখানে ব্যক্তিকে আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ কর দিতে হয়। অবশ্য সরকার এই রাজস্ব আয় জনগণের স্বার্থেই ব্যয় করে। সুইডেনে স্বাস্থ্য সেবা বিশ্বমানের, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়।
ইসরায়েল
গাজায় হামাসের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। প্রতিবেশী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সদ্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে। তারপরও ইসরায়েল সুখী দেশের তালিকায় পাঁচ নম্বরে। ইসরায়েল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ধনী ও শক্তিশালী। এটি এদের সুখী হওয়ার অন্যতম কারণ। জাতিসংঘের সুখী দেশের তালিকায় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম স্থানে আছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।


